”  দৃঢ়  মনোবল আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা  নিয়ে শিমুর বিশ্ব জয়ের যাত্রা ” 

|| তিয়াসা হাসান ||

নিজের ইচ্ছা আর শখকে প্রাধান্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হলে বাঁধা আসবেই। আর এই  সকল বাঁধা-বিপত্তি কে পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এবং বিশ্ব জয়ের আকাঙ্ক্ষা যাদের মধ্যে অবস্থান করে দিনশেষে তারাই সফল। যেমন COTM এর আনিকা তাবাসসুম শিমু। 
আনিকা তাবাসসুম শিমু COTM এর অরগানাইজিং প্যানেলের এক অন্যতম সদস্য। বর্তমানে শিমু পড়াশোনা করছেন সরকারি কালাচাঁদপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজে। প্রায় ১ বছর থেকে যুক্ত আছেন COTM এর সাথে শিমু। এই ১ বছরের পরিশ্রমের ফলে বর্তমানে অরগানাইজিং প্যানেলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন শিমু।
COTM এ কাজ করার অনুভূতি  সম্পর্কে জানতে চাইলে  শিমু বলেন,’ অন্যান্য গ্রুপের থেকে COTM আমার ফেভারিট কারণ এডমিন প্যানেল অলওয়েজ এক্টিভ থাকে, যেকোনো প্রব্লেম ক্রিয়েট হলে তৎক্ষনাৎ একশন নেয়। আর COTM এর প্রত্যেক মেম্বার অনেক ভালো এবং  ভবিষ্যতেও আমি COTM এর সাথে যুক্ত থাকতে চাই। ‘
পড়াশোনার বাইরে কোনো শখ আছে নাকি জিজ্ঞাসা করায় শিমু জানান নাচের প্রতি প্রবল ভালোবাসা আর আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। শিমু ৩ বছর বয়সে নাচ শেখা শুরু করেন। ছোট বেলায় মায়ের দ্বারাই শিমুর নাচের হাতেখড়ি। বিভিন্ন ক্লাসিকাল ডান্স কম্পিটিশনে পার্টিসিপেট করে পুরুস্কৃত ও হয়েছেন শিমু। কিন্তু বর্তমানে Hip-hop আর kpop স্টাইলেই বেশি নাচ করেন শিমু। Brian puspos, keone madrid কে বেশি ফলো  করেন শিমু, কারণ তাদের ডান্স স্টাইল শিমুকে ইন্সপায়ার করে নিজেকে আরো উন্নত করতে।শিমুর একটি ইউটিউব চ্যানেলও আছে ‘SHIMU’ নামে, যেখানে তিনি নিয়মিত নিজের নাচের ভিডিও পোস্ট করেন।নাচ কে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়ার ইচ্ছা আছে নাকি জিজ্ঞাসা করায় শিমু বলেন, ‘ শিমুর ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে ইন্টারন্যাশনাল ডান্স কোরিওগ্রাফার হওয়ার,  এছাড়াও  ইচ্ছা আছে একটি গ্রুপসহ World of Dance এ পার্টিসিপেট করার ‘ 
তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কৌশল, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং COTM এ কাজ করার এক্সপিরিয়েন্স ভবিষ্যতে কীভাবে সাহায্য করতে পারে  জানতে চাইলে শিমু জানান,তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি বিদেশ যেয়ে অনেক ওয়ার্কশপ করতে চান এবং একটি টিম গঠন করে World of Dance এ অংশগ্রহণ করতে চান। আর COTM এ কাজ করার এক্সপিরিয়েন্স তাকে হেল্প করবে নতুন মানুষদের সাথে কমিউনিকেট করতে এবং নিজের ডান্সিং স্কিলস উন্নতি করতে। 

নাচের জগতে নতুনদের উদ্দেশ্যে শিমু বলেন, ‘  নাচের জগতে নিজের স্থান তৈরি করতে হলে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হবে, হয়ত ফ্যামিলি সাপোর্ট করবেনা, আশেপাশের মানুষ সাপোর্ট করবেনা কিন্তু সবসময় ফোকাসড থাকতে হবে আর নিয়মিত প্র‍্যাক্টিস করতে হবে নিজের স্কিলস উন্নত করতে হবে, আর মোস্ট ইম্পোর্টেন্টলি ডেডিকেটেড থাকতে হবে। ‘ 
শিমুর সামনে এগিয়ে যাওয়ার, নিজের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়ার এই যাত্রায় এবং ভবিষ্যতের সকল ধাপে তাকে জানায় অনেক শুভ কামনা। 

“ইচ্ছার প্রবণতা রাতের তারা  অপেক্ষাকৃত নতুন  আলো”

||নিগার সুলতানা মৃত্তিকা||

কিছু কিছু সুন্দর লেখা  যা আমাদের মন ভালো করে দেয়,  কিছু সুন্দর  মানুষ  যা আমাদের ইচ্ছা প্রবণতা তৈরি  করে ,  ভালোবাসতে শিখায়,  হাসির কারন হয়, কোনো ইচ্ছে   সব কিছু মাঝে প্রশান্তি ছায়া দেখায়।  
*Life is one, life will give you the way you do it yourself.* 
Castaway on The Moon ( COTM) হলো একটি আর্টবেসড আনলাইন প্ল্যাটফর্ম,বর্তমানে প্রায় চারলক্ষ সদস্য  নিয়ে  COTM পরিবার, যা মানুষের  ভালোবাসায় উন্নতির  দিকে পা আগাচ্ছে নতুন নতুন সৃষ্টি নিয়ে।  সেই পরিবাবের একজন সদস্য  হলেন রোহান সিয়াম (Deadbunny)  COTM এর organizing  panel হিসেবে আচ্ছেন তিনি একজন সঙ্গীত শিল্পী। 
সঙ্গীত যা মানুষের  মন ভালো করে দেয়, যা  প্রশান্তি ছায়া   দেয়,  যা মনের ভাব প্রকাশ করে  হাজার লাইনের মাঝে।  গান আমরা কেনা কে পছন্দ  করি, গান আমাদের নতুন জীবন দেয়,  নতুন আলো দেখায়, তিনি তার সঙ্গীতে beadbunny নামে পরিচিত।তিনি ২০১৭ থেকে  তিনি গানের   যাত্রা  শুরু করেছিলেন তার প্রথম গান   বানানো হয় ২০১৮ থেকে।  তিনি EDM এর একজন শিল্পী ।  যার সম্পূর্ণ শব্দ হলো “Electronic   Dance Music “। 
 বর্তমানে কি করছেন তার সম্পর্কে   জানতে চাইলে তিনি বলেছেন-একজন শিল্পী হিসেবে তিনি  কোনো   প্রতিষ্ঠান  কে ক্রেডিট দিতেচান না   কারন তিনি মনে করেন শিল্পী জীবনে তার কোনো   কীর্তি নেই।  কিন্তু  তিনি তার  স্কুলের সর্ম্পকে অনেক সুন্দর  সুন্দর বাক্য  বলেছেন  –  যে স্কুল  আমাকে ছোট থেকে বড়  করেছে , এবং আমার উন্নতি জীবনে ও শিল্পী  জীবনে স্কুলটি  অনেক কীর্তি রাখে,  যেমন ইংলিশে   প্রাচুর্যপূর্ণ হওয়া , যাতে  একটি শিল্পী  জন্য প্রয়োজনইত্যাদির।    স্কুলে  নাম হলো : baridhara scholars institution which is located in baridhara DOHS, dhaka. তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি চাইলেতো অন্য কিছুও করতে পারতেন।যেমন- ফটোগ্রাফি,নাচ,  ছবি আকাঁ ইত্যাদি। এসব বাদ দিয়ে গান গাওয়া  কে পেশা হিসেবে  কেন বেচে নিলেন?তিনি তার উত্তরে বলেছেন –  
 গান গাওয়া কে বেচে নিয়ার তার বিষয়গত কারণ রয়েছে, সবার আগে তিনি  অনুভব করেছি যে আমার এটি করা উচিত,  তিনি বলেন  যখন  আমি আমার বুকের উপর  কম্পন শুনি তখন এটি আমাকে আলাদা  একটি অনুভূতি দেয়।আলাদা শান্তি সৃষ্টি করে যা অনুভুতি  বলে প্রকাশ করার মত নয়।
তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি কার কাছ থেকে বা কিভাবে  ইন্সপায়ার হইছেন – তিনি বলেন 
তিনি যে ধরনে গান এর প্রতি আকৃষ্ট  ছিলেন তার নাম ছিল EDM(Electronic Dance Music)। কিন্তু তিনি সে  কিন্তু কোন কারন ছাড়াই তিনি এই সব গান শুনতেন  বড় বড় শিল্পীদের থেকে তিনি এই সব গান শুনতেন ,  যারা আগের থেকে গান  এর বিপুল  পরিচয়।  উদাহরণ  অনুযায়ী _Martin Garrix, DJ Snake, The Chainsmokers, Skrillex and many more. But jei song amake inspiration dei sheti holo ” Dont Let Me Down by the Chainsmokers”  তার পর থেকে তিনি আগ্রহী  হয়ে যান। 
তাকে ধন্যবাদ  জানাই তার সুন্দর সুন্দর কথা মাঝে দিয়ে তিনি সবসময়ই  হ্রদেয় থাকবেন। এভাবে তার প্রতিটি মুহুর্ত যেনো  আকাশ ছোয়া হোক। 

“একদিন সফলতা আসবেই “

||মুসাররাত আনজুম তুসী ||

কাওসার আহমেদ আসিফ। বর্তমানে ঢাকা থাকেন,পেশায় একজন শিক্ষার্থী। এবার উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতে গায়ক হওয়ার।
৮ বছর বয়স থেকে শখের বশে গুনগুন করে গান গাইতেন আসিফ।বড় হওয়ার সাথে সাথে গানের প্রতি ভালোবাসাও দিনদিন বাড়তে থাকে,তাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে গান শেখা শুরু করেন।স্কুল এবং কলেজ জীবনে পেয়েছেন নানা পুরস্কার।
এত কিছু থাকতে গানই কেন বেছে নিলেন?-উত্তরে তিনি বলেন, “আমি গানের মাঝে নিজেকে খুঁজে পাই।আর স্যাটিসফেকশনটা সেখান থেকেই আসে।”পছন্দের গায়ক আতিফ আসলাম থেকেই অনুপ্রাণিত হন এবং অনুসরণ করেন তিনি। একটা সময় আতিফ আসলামকে অনুকরণ করে গান গাইতেন বলে পাড়ার সবাই তাকে ডাকে “আতিফ আসলামের কপি” বলে।
সবার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের অন্যান্য গানের পাশাপাশি বাংলা গানগুলোস শোনা উচিৎ। মানুষ দিনদিন বাংলা গান থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।তরুণদের আগ্রহগুলোকে সাপোর্ট করা জরুরি কারণ আমাদের আশেপাশে অনেক ট্যালেন্টেড মানুষ আছেন যারা একটু সুযোগ এবং সমর্থনের অভাবে নিজেদের ট্যালেন্টগুলোকে প্রকাশ করতে পারছেন না।আমরা যদি তাদের সহযোগিতা করি,তবেই বাংলাদেশ গানের দিক থেকে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে!”
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে গান গেয়ে আপলোড করতে শুরু করেছেন আসিফ।অল্প সময়ের মাঝেই চ্যানেল প্রায় দুই হাজার সাবস্ক্রাইবারের গণ্ডি পেরিয়েছে।তিনি প্রথমে অনলাইন প্লাটফর্মে গান গেয়ে পাবলিশ করা শুরু করেন Castaway On The Moon(COTM) এর মাধ্যমেই। পেয়েছেন অনেক মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা,যারা তাকে এখনো অনুপ্রাণিত করেন।তাই,সিওটিএম এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও শুভ কামনা জানান আসিফ।”সফলতা একটি যাত্রা,গন্তব্য নয়।”- এ কথার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কাওসার আহমেদ আসিফ।তার এ মনোভাব ও পরিশ্রমই যেন তাকে দিনদিন সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!আশা করা যায়,ভবিষ্যতে আসিফ নিজেকে বাংলাদেশের একজন সফল গায়ক হিসেবে গড়ে তুলবেন।  তার স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুভ হোক এই কামনা রইলো!

শিল্পী তিনিই যিনি অন্যকে অনুপ্রাণিত করেন

||আবসারাহ্ ফাইরুজ||

চিত্রশিল্পের মধ্যে শিল্পীর মনের ভাব, প্রচ্ছন্ন কিছু বক্তব্য বা ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে। বাস্তবের দৃশ্যের পেছনে অন্য কিছু যেন শিল্পী বলতে চায় যা দর্শককে ভাবায় তাকে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে নতুন কৌতুকহল সৃষ্টি করায়।মানুষ ভাবতে ভালোবাসে। মানুষের মনে যেসব ভাবনা খেলা করে সেসবের শিল্পময় প্রকাশই ছবি আঁকা।  সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তুলির আচরে ক্যানভাসে মনের আনন্দে আমরা ছবি আঁকি। কেউ কেউ শখের বসে ছবি আঁকি আবার কারো জন্য এটা আবার জীবিকা নির্বাহের উপায়ও।

তেমনই একজন শখের কারিগর ঋজু নাগ । কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্বিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স করেছেন তিনি। বর্তমানে গবেষণা করছেন astro physics নিয়ে । থাকেন তিনি ওপার বাংলা , তথা কলকাতায়। তবুও এপার বাংলায় তার খ্যাতি কম নয় ! পদার্থবিদ্যায় পড়েও শখের বশেই হয়ে উঠলেন একজন অসাধারণ চিত্রশিল্পী। আর অল্প সময়েই পেয়ে গেলেন মানুষের অজস্র ভালোবাসা ও সম্মান। 

ভালোলাগা , ভালোবাসা থেকেই তার এই যাত্রার শুরু । ছোট থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল তার। তখন তেমন একটা পারতেন না বলে এ নিয়ে আর এগোননি । তবে পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আবারও শুরু করেন তার শখের যাত্রা। তবে এবার কিছুটা গুরুত্ব দিয়েই।এরপর থেকে আর থামেননি। তিনি জানান , “বর্তমানে ছবি আঁকা আমার কাছে মেডিটেশনের মত। দিনে কিছুটা সময় হলেও আঁকি অবশ্যই। এর ফলে রিসার্চের সময় ও মাথা ফ্রেশ থাকে। “

তার ছবি আঁকার বিষয়বস্তু মূলত মানুষ। নানা ধরনের মানুষ, তাদের সবার মধ্যে যে সৌন্দর্য বা তাদের যে আবেগ , এগুলো ফুটিয়ে তুলতে ভালবাসেন তিনি । তিনি বলেন , ” কখনো যদি কোনো জড় বস্তুর বা ল্যান্ডস্কেপ – এর মধ্যেও কোনো কিছু খুঁজে পাই, যাতে মনে হয় প্রাণ আছে, একটা ইমোশনাল দিক আছে, তখন সেটাও আঁকতে ভালোলাগে। টেকনিক্যালি, আমি রিয়ালিজম বেশি পছন্দ করি। আর মিক্সড মিডিয়াতে কাজ করতে ভালোবাসি।”

এত ত্যাগ ও ভালোবাসা এনে দিয়েছে তাকে বেশ বড় বড় সাফল্য ! COTM মেগা ইভেন্ট ২০২১ এ “পেইন্টিং” সেগমেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি । এ ছাড়া ৩ বার কলকাতায় এক্সিবিশন এ অংশ নিয়েছেন তার ছবি দিয়ে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন , ” এ সকল অ্যাওয়ার্ড থেকেও বড় হলো আমি ছবি আঁকার মাধ্যমে অনেক মানুষের সাথে কানেক্ট করতে পেরেছি, অনেক গুণী মানুষের থেকে শিখতে পেরেছি, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের সাথে মিশতে পারছি ( উদাহরণ স্বরূপ আপনার সাথে এই কনভারসেশনটি)। আমার কাছে এগুলো বেশি দামী। যেমনটি Devi Faraday ke বলেছিলেন  “material rewards are pitifully small” .

আঁকাআঁকি ছাড়াও রিজুর আরেক শখ হলো ফটোগ্রাফি। অনেক ছোট থেকেই তিনি এর চর্চা করেন। এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন , ” ফোটোগ্রাফি আমার সস্তা কোদাক ক্যামেরা দিয়ে শুরু। আমার কাছে ছবি তোলার ব্যাপারটা জাদুর মত । আলো, ছায়ার মাধ্যমে গল্পবলা  জিনিসটা অদ্ভুত সুন্দর। তারপর এখন ছবি আঁকার দিকে শখটা ঘুরে গেলেও, আমি ভবিষ্যতে দুটো একসাথে কাজে লাগাতে চাই। নিজের পেইন্টিংয়ের কম্পোজিশন নিজেই বানাতে চাই ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। এর ফলে দুটো একসাথে চালিয়ে যেতে পারবো আশা রাখছি ।

আশা রাখছি , তিনিও ভবিষ্যতে এ জগতে আরোও সফলতা অর্জন করবেন । অনেকের জন্য হয়ে উঠবেন ‘রোল মডেল’।মনের গভীর থেকে তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করছি।

‘জীবনের ছন্দ পতন দমাতে পারেনি তার ইচ্ছাশক্তিকে’

|| আফিয়া নাওয়ার রাইসা ||

বিশ্ব বিখ্যাত দার্শনিক Socrates বলেছেন, “An unexamined life is not worth living.” Socrates এর এই বাণীকেই যেন আকড়ে ধরে আত্ববিশ্বাস নিয়ে ইচ্ছা পুরণ এর লক্ষে আগিয়ে যাওয়া একটি মেয়ের। কথা বলছি লালমাটিয়া মহিলা কলেজ এর MBA তে অধ্যায়নরত আয়েশা আক্তার লাবন্য কে নিয়ে।
 COTM এর সাথে পথচলা তার প্রায় ১ বছরের। COTM এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে হাজারো শিল্পী তাদের শিল্পকর্ম লাখো মানুষের সামনে প্রতিনিয়ত তুলে ধরছেন। প্রায় সাড়ে চার লক্ষ পরিবার এর সদস্য হতে পেরে লাবন্য আনন্দিত বলে উল্লেখ করেছেন।
অসাধারন এই নৃত্যশিল্পীর হাতেখরি হয়েছে সোহেল রহমান, ওয়াসেক মুত্তাকিনুর রহমান এবং সাযেদ আহমেদ এর মত গুরুদের হাতে। বাংলাদেশ টেলিভিশন সহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের অসংখ্য অনুষ্ঠানে লাবন্য অংশগ্রহণ করেছেন। 
“পথটা কি এমনি সাজানো গুছানো ছিল?” এমন প্রশ্ন করার আগেই নিজের থেকেই বললেন তার এই পর্যন্ত আসতে গিয়ে পাড় করা চড়াই উতরাই এর কথা। নাচ শিখতে নাচের স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরও রক্ষণশীল পরিবারের সদস্য হওয়ার কারনে নাচের স্কুলকে বিদায় জানাতে হয়। কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি  দিয়ে সে সকল বাধা বিপত্তিকে ভেদ করে ফেলে। নিজের জমানো টাকা দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে নাচের স্কুলে একাই ভর্তি হয়ে যায় লাবন্য। নাচের সেই স্কুলের লিখিত পরীক্ষার পড়া পড়েছেন বাসার ছাদের সিড়িতে বসে! তার এই দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রম বিফলে যায়নি। ঢাকা বিভাগে ভিতর লিখিত পরীক্ষায় প্রথম ও ললিতকলা একাডেমির ধানমন্ডি শাখায় ব্যবহারিকে প্রথম হন তিনি।     আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। লাবন্যর মা ও জীবনসাথীই তার নাচের পিছনের অনুপ্রেরণা বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, ” ধৈর্য্য ও Determination থাকলে যে কোন কিছু অর্জন করা সম্ভভ।””বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এখন নৃত্য চর্চার মর্যাদা কেমন?”এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ” আগের চেয়ে অনেক ভাল। এখন মানুষ ফ্লেক্সিবল হয়েছে।” নতুন নৃত্য শিল্পীদের তিনি ভাল গুরুদের থেকে তালিম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে নিজের একটি নাচের স্কুল খোলার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন লাবন্য। তার মতো দৃঢ় মনোবলের শিল্পীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন,” Just follow your dream and one day you will be successful.”তার জীবনের এই সফর সত্যিই সকলের মাঝে অনুপ্রেরণা যোগায়।

শখ ও প্রচেষ্টাকে এক সুতোয় বাঁধার মধ্যেই অসাধ্য সাধনের শক্তি নিহিত”

||সুমাইয়া বিনতে আলম||

লিখছি সিনাটোগ্রাফার জুনায়েদ হোসেনকে নিয়ে, ডাকনাম যার আকিব। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র আকিব পড়াশুনা করছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে। তাই স্বভাবতই আগ্রহ তার ব্যবসায়-বাণিজ্য ও অর্থনীতি নিয়ে। সে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চায় নিকট ভবিষ্যতে। সময় পেলে আকিব ভিডিও গেমস, এডিটিং এসব নিয়ে কাজ করে। নতুন কিছু জানা ও আয়ত্ত করার প্রয়াসে নিয়োজিত থাকতে পছন্দ করে সে।
পড়াশুনার পাশাপাশি নিজের শখ ও আগ্রহকে চর্চা করতে ভুলেনি আকিব। আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে নিজস্ব ফোনে ছবি তোলার হাতেখড়ি হয় তার। সেই থেকে একটি ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট চালু করে সেখানে ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত বিষয়গুলো ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে পরিচয় হয় বিভিন্ন প্রফেশনালদের কাজের সাথে। আকিব প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত হয় বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর দিহান চৌধুরির সিনেমাটোগ্রাফিতে। অতপরঃ ফটোগ্রাফির নৈপুণ্য কাজে লাগিয়ে সিনেমাটোগ্রাফির জগতে প্রবেশ ঘটে তার।
পরিবার এবং বন্ধুমহলে বেশ খাতির পায় আকিব তার কাজের সুবাদে। তার সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্ট সবার আগে শেয়ার দেয় তার মা। কাছের মানুষদের সমর্থন তার অণুপ্রেরণার সবছেয়ে বড় উৎস। আকিব খুব সম্প্রতি অনেক অনেক প্রশংসা কামিয়েছে COTM এর অফিসিয়াল গ্রুপে করা তার সর্বপ্রথম পোস্ট থেকে। বেশ কিছু কনটেন্ট বানানোর মাধ্যমে দক্ষতা ঝালাই করার পর নিজের মনমতো সিনেমাটোগ্রাফ তৈরী করে পরক্ষণেই তা পোস্ট করে সে। মাত্র কয়েক ঘন্টায় সে পোস্ট থেকে পাওয়া অভাবনীয় সাড়া ও ক্রমাগত প্রশংসা তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগায়।
সিনেমাটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই আকিবের। বরং একে পাঠ্যক্রম বহির্ভূত একটি কার্যক্রম হিসেবে ধরে রাখতে চায় সে। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি খানিকটা সময় এই নির্দিষ্ট শখ চর্চায় ব্যয় করতে বেগ পেতে হয়না তাকে। তার উপলব্ধিতে বাংলাদেশে মানসম্মত সিনেমাটোগ্রাফির চাহিদা বর্তমানে তুঙ্গে যার ফলে অনেকেই সফল হতে পারছে এই ক্ষেত্রে।
অপক্ক হাতে সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে শুরু করা যাত্রা এখন পর্যন্ত বেশ অনুকুলে আছে আকিবের। পাড়ি দেওয়া বাকি আরো অনেক পথ। সোনালি সূচনার উদ্দীপনা, অদম্য প্রচেষ্টা এবং কাছের মানুষের অকৃত্রিম সহযোগিতা থাকলে সাফল্য সাধন সম্ভব বলে মনে করে সে।

“নেক্সট অপরচুনিটি-ই বেস্ট অপরচুনিটি ”

||নূরুল হাসান সানি||

আজ থেকে দশ বছর কিংবা আরো পরে, যদি আপনাকে আজকের দিনের একটা স্মরণীয় ছবি দেখানো হয়, আপনি কি এতোদিন পরেও পুরোনো এই অনুভূতিটার স্বাদ ফিরে পাবেন? শাহারিয়া আলম রিশাদ বিশ্বাস করেন আপনি পাবেন। 
শাহারিয়া আলম রিশাদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট-এ শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। রিশাদের ফোটোগ্রাফির হাতেখড়ি হয় ছোটোবেলাতেই। ছোটোবেলা থেকেই মোমেন্টস ক্যাপচার করতে আগ্রহী রিশাদ। সেই আগ্রহ থেকেই জানতে থাকেন ফোটোগ্রাফির ব্যাপারে। নিতান্তই শখের বসে শুরু করা ফোটোগ্রাফি থেকে আজ তিনি Pacific Press Agency নামের একটি ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মে কন্ট্রিবিউটর ফোটোজার্নালিস্ট হিসেবে আছেন এবং বাংলাদেশের একটা কোম্পানিতে সিনিয়র প্রোডাক্ট ফোটোগ্রাফার হিসেবে আছেন। এর বাইরে তিনি নিজের একটা পেইজও চালান Shahria Rishad Photography নামের। তবে নিজেকে প্রফেশনাল ফোটোগ্রাফার বলতে নারাজ রিশাদ। তিনি বিশ্বাস করেন এখনো তার অনেককিছু শেখা বাকি।
চট্টগ্রামের সময়, নগরপত্রিকা.কম এর মতো আরো অনেক জনপ্রিয় অনলাইন ভিত্তিক ইভেন্ট, ম্যাগাজিনেও ফিচার হয়েছেন রিশাদ। capture your dream গ্রুপে করা দুটি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির একটি এক্সিবিশনেও। এছাড়াও অনেক ছোট বড় অসংখ্য ইভেন্টে পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি। রিশাদের ইচ্ছে আছে নিজস্ব একটি এক্সিবিশন করার। 
ফোটোগ্রাফি এর বাইরেও অভিনয়, লেখালেখি এবং ট্রাভেলিং-এ কিছুটা ঝোঁক আছে রিশাদের। “ঢাকার রঙ্গপিঠ” নামক নাট্যদলের সাথে মুক্তমঞ্চ, শিল্পকলা, শহীদ মিনারে কিছু কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। এর বাইরে ছোটোবেলায় স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নিজের অভিনেতা স্বত্তাকে তুলে ধরেছেন সকলের সামনে। তবে ফোটোগ্রাফিকে তিনি সবকিছুর ওপরে রাখেন সবসময়। 
নিজস্ব এক্সিবিশনের পাশাপাশি আরো কিছু ইচ্ছে আছে রিশাদের। ডকুমেন্টারি হোক কিংবা ফোটো জার্নালিজম, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান তিনি। সেই সাথে তিনি আরো চান দেশের ফোটোগ্রাফি সেক্টরটাকে আরো উন্নত করতে। নতুন ফোটোগ্রাফারদের জন্য একটা মজবুত জায়গা করে দিতে চান। তিনি মনে করেন আমাদের দেশে ফোটোগ্রাফারদের যোগ্য সম্মান দেয়া হয় না৷ ফোটোগ্রাফারদের জন্য সেই সম্মানের জায়গাটা করে দিতে চান তিনি।
ফোটোগ্রাফিতে রিশাদের অনুপ্রেরণার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি খুব আকর্ষণীয় একটি জবাব দেন। তিনি জবাব দেন, “না” তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন,“এই ‘না’ টা হচ্ছে একান্তই ব্যক্তিগত একটি কারন। তবে এটুকু বলতে চাই মানুষের জীবনের ব্যর্থতা তার আগামীর জীবনের সফলতা নিয়ে আসে। আমার কাছে ‘নো’ মানে শুধুই না নয়, আমার কাছে ‘নো’ মানে নেক্সট অপরচুনিটি।” এর বাইরে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার পরিবারের প্রতি। আমাদের সমাজে ফোটোগ্রাফি-ফোটোগ্রাফার ব্যাপারটাকে আড়চোখে দেখা হলেও, ব্যতিক্রম ছিল রিশাদের পরিবার। শুরু থেকেই রিশাদকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তার পরিবার।
আলসেন অ্যাডামস-এর,“You don’t take photograph, you make it” উক্তিটিকে মনে প্রানে বিশ্বাস করে এগিয়ে চলা শাহারিয়া আলম রিশাদকে ভবিষ্যতের পথচলার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

পরবর্তি সপ্তাহগুলোতে নিজেকে এ অবস্থানে দেখতে চাইলে করনীয়:

  • সিওটিএম গ্রুপে সপ্তাহজুড়ে আপনার বেস্ট আর্টওয়ার্কগুলো পোস্ট করতে হবে।
  • ক্যাপশনে আপনার পরিচিত নূন্যতম ৫জন বন্ধুকে মেনশন করার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ এক্সপ্ট করার জন্য নমিনেট করতে হবে।
  • ক্যাপশনে অবশ্যই #cotmofficials হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় আপনি এই চ্যালেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবেন না।