ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারিহা তাহসিন ইরা। খাওয়াদাওয়ার প্রতি ভালোবাসা থেকেই শুরু করেছেন ফুডিজম। তার ফুডিজমের গল্প নিয়ে কথা বলছেন মোহাম্মদ ইসতিয়াক।

খাওয়াদাওয়ার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকেই ইউটিউব কনটেন্ট মেকিং শুরু করেন ফারিহা তাহসিন ইরা। ইউটিউবে নিজের চ্যানেলের নাম রেখেছেন ফুডিজম। সেখানে তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক এবং ভিউজ সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি। এছাড়া ইরার ফুডিজম নামক পেইজে লাইক সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার।

ফারিহা তাহসিন ইরা একজন উঠতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেকটা জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। ভালোবাসা পেয়েছেন হাজারও দর্শকের।

বর্তমানে এত এত কনটেন্টের মাঝে ফুড ব্লগ নিয়ে কাজ করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের একটি বিষয়। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ ইউটিউব প্ল্যাটফরমে ফুড ব্লগারও কিন্তু কম নয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ইরা প্রায় ৫৮টি ভিডিয়ো আপলোড করে লুফে নিয়েছেন প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক সাবস্ক্রাইবারস। সেই সাথে ভ্লগ করেছেন বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের খাবার নিয়ে।

শুরুতে ইরা ফুড ভ্লগ নিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তবে এই কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার জন্য ইরাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তার পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুগণ। তাদের পরামর্শেই প্রথম কয়েকটি ভিডিয়ো তৈরি করেন ইরা। তারপর তিনি লক্ষ করেন, অনেক দর্শক তাকে সাপোর্ট করছেন। এরপর তিনি ফুড ভ্লগ নিয়ে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। আর সেই ইরাকে এখন অনেকে সম্বোধন করে ফুডিজম আপু বলে।

শুধু খাওয়াদাওয়া নিয়েই যে ব্যস্ত তা নয়, তিনি একজন ভালো রাঁধুনিও বটে। ইরা শখের বশে রান্না করেন এবং রান্না করতে তিনি বেশ পছন্দ করেন। বিশেষ করে পরিবারের এবং নিজের প্রিয় খাবারগুলো ভালো করেই শিখে রেখেছেন। তবে ভ্লগের ক্ষেত্রে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে কাজ করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

‘ভিডিয়ো করার জন্যই কি এত খাওয়া-দাওয়া করা হয়, না-কি বাস্তবেও আপনি এমন?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভিডিয়ো এর জন্য যেমন খাওয়াদাওয়া করা হয়, বাস্তবেও তিনি তেমন। বাসায়ও তিনি তেমনটাই খাওয়াদাওয়া করে থাকেন। অর্থাৎ কনটেন্টের মাঝেও তার বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

অন্যান্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মত ইরারও বেশকিছু খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক এক রেস্টুরেন্টে এক একরকম বিধিনিষেধ বিদ্যমান। অনেকসময় অনেক রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ভিডিয়ো করার সময় লক্ষ রাখেন যে, রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে ভিডিয়োতে কোনো খারাপ কিছু বলে ফেলছেন কি না। বিষয়টি ইরার জন্য একটু অস্বস্তিকর। কারণ এমতাবস্থায় স্বাধীনভাবে করার সুযোগটি হারিয়ে যায়।

তবে খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হলেও ভালো অভিজ্ঞতাগুলো ইরার জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক। যখন কোনো ভক্ত ইরাকে চিনে ফেলে এবং বলে ওঠে ‘আপনি ফুডিজম আপু না?’ তখন ইরাকে বিষয়টি অনেক আনন্দ দেয়।

ফুডিজম নিয়ে ইরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাপক। এ বিষয়ে তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের কারণে তিনি এখন অনেক কিছুই করতে পারছেন না। তবে করোনা পরিস্থিতি কমে গেলে হয়তো তিনি ঘরের বাইরের ব্লগগুলো আরও বেশি করার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও তিনি নিজের একটি ব্যক্তিগত চ্যানেল খোলার ব্যাপারেও জানান। যেখানে তিনি খাওয়াদাওয়ার বাইরে নিজের ব্যক্তিগত ভিডিয়ো প্রকাশ করবেন। তবে বর্তমানে ইরা নিজের চ্যানেলের জন্য কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি বেশকিছু প্রমোশনাল কাজও করছেন।

সর্বশেষ তিনি নতুনদের জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, দর্শক কনটেন্টের নির্ভরযোগ্যতা বুঝতে পারেন। সুতরাং সব সময় চেষ্টা রাখতে হবে কনটেন্টগুলো নির্ভরযোগ্য করে তোলার জন্য। তিনি আরও বলেন, নিজের নিজস্বতা তুলে ধরতে হবে কনটেন্টে এবং দিনশেষে সেটাই কাজে দেয়।

ছবি: সংগৃহীত

2 COMMENTS

Comments are closed.