সপ্তাহের সেরা পাঁচ আর্টিস্ট, পর্ব-১ || সিওটিএম

Must read

‘ভালোবাসা ও শখ’ দুটোই যখন গেঁথে আছে লাভন্যার নৃত্যের মাঝে।

প্রকৃতির প্রত্যেকটি জিনিসের রয়েছে নিজস্ব ছন্দ, সেটি আরও গভীরভাবে দেখতে হলে আমাদের স্রষ্টার সেরা সৃষ্টির দিকে দৃষ্টিপাত করতে হয়। সেই ছন্দকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করার মাধ্যমে নৃত্যের আবির্ভাব ঘটে।
আমাদের ব্যাবহারিক জীবন থেকে শুরু করে চেতনা জগৎ-সহ, জীবনের মৌলিক দিকগুলোয় নৃত্য কতটুকু অবদান রেখেছে তা বিবৃতি করা ভারি মুশকিল, তাই আমরা শুধু সেগুলো অনুভব করি তাদেরই মাধ্যমে যারা আজও এই ছন্দকে টিকিয়ে রেখেছে; তাদের মধ্যেই একজন লাভন্য ঘোষ!
বয়স যদিও তার বেশি নয়। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্রী তিনি। থাকা হয় ওপার বাংলায়,তথা কলকাতায়। তবুও এপার বাংলায় তার পরিচিতি কম নয়।এপার বাংলার নানা অনলাইনভিত্তিক গ্রুপগুলোতে তিনি যথেষ্ট পরিমাণে সাড়া জাগাতে পেরেছেন। পেশাগতভাবে তিনি Odissi Classical নৃত্যশিল্পী। এ ছাড়াও তিনি DA(Doordarshan Artiste) এবং EZCC(Eastern Zonal Cultural Centre) এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। মনে যখন প্রশ্ন জাগল, “এই পেশাগত জীবন ছাড়া তার শখগুলো কী হতে পারে?”

প্রত্যুত্তরে পেয়ে গেলাম নৃত্যের ব্যাপারে তার গভীর ভালোবাসার ছাপ। তিনি বলেন, “নাচ সর্বদা আমার মুড পরিবর্তনকারী হিসেবে কাজ করতো ছোটোবেলা থেকেই। নাচ আমার সকল সমস্যা সমাধানের উৎস ছিল।” তিনি এটাও ব্যক্ত করেন যে, নাচ তারই একটি অংশ। শুনে অবাক হয়ে তাকে আবারও জিজ্ঞেস করলাম, কীভাবে সে এর জন্য এত সময় বের করে, তিনি বললেন, “আমি মনে করি আমাদের কখনো সময় বের করতে হয় না সেই সকল জিনিসগুলোর জন্য, যেগুলো আমরা ভালোবাসি। নাচ আমার কাছে অক্সিজেনের মতো” শুনে বুঝে গেলাম তার আত্মোৎসর্গের মাত্রা কতটা উঁচু! সেটি আরও পরিষ্কার হয়ে গেল যখন জানতে পারলাম, খুবই ছোট্ট বয়স থেকেই পরিবার-সহ একাডেমিক কার্যকলাপ – সবক্ষেত্রই সমানভাবে পরিচালনা করে আসছে। এমনকি তিনি তার উচ্চশিক্ষার পরীক্ষাগুলোর আগের নানা জায়গায় নৃত্য প্রদর্শন করেও সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে আসছেন। সাথে সাথে নানা ফাংশন-সহ সোশ্যাল ইভেন্টের নিমন্ত্রণকে পরিহার করেছেন শুধু আরও প্র্যাকটিসের জন্য।
এত ত্যাগ ও ভালোবাসা এনে দিয়েছে তাকে বেশ বড়ো বড়ো সাফল্য ও অসীম ভালোবাসা। এপার বাংলা-সহ ভারতের উচ্চ শিখর থেকেও। তিনি যথাক্রমে “Winner at Bharat Sanskriti Utsav, MCGI ;1st Runner-up of Pashchim Bengal Rajya Sangeet State level Compition for Consecutively 2 Years; Winner Of Sanjukta Panigrahi Memorial Award, Nritya Shree Award, Bal Kala Award-সহ আরও নানা উচ্চ জায়গায় তিনি সম্মাননীয় পর্যায়ে ধ্রুবভাবে অবস্থান করছেন।

লাভন্যের সাথে কথোপকথনের একপর্যায়ে এসে যখন তার মনের সবচেয়ে বড় কামনার কথা জানতে চাইলাম, তখন তিনি বললেন, “আমি আমার মতো স্বতন্ত্র শিল্পীদের কাছ থেকে আরও অনেক আসল সৃষ্টি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি চাই যে সমস্ত শিল্পী এগিয়ে এসে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের ও পৃথিবীর জন্য এবং তাদের জন্য শিল্প তৈরি করুক।”
একই প্রসঙ্গে যখন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চাইলাম, লাভন্যের উত্তর ছিল একটি মাত্র লাইন, “আমি আমার ওডিসি নাচকে নিয়ে এগিয়ে বিশ্বের সামনে আমার সংস্কৃতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দ্বারা কিছু বিস্ময়কর সৃষ্টি উপহার দিতে চাই।”
 অতঃপর বুঝতে পারলাম যে, আমাদের সংস্কৃতিক জীবনের ভিত্তিমূলে নৃত্য কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলো কোনো কিছুই বোঝা যেত না যদি লাভন্যের মতো অসংখ্য তরুণ-তরুণী, বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেরা তাদের রক্তকে ঘাম না বানাতো। তারাই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে নিজের না বলা শব্দগুলো কীভাবে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বলা যায়। তাদের কৃতিত্ব আবারও মনে করিয়ে দেয় Martha Graham এর সেই মহান উক্তিটি, “Dance Is The Hidden Language of soul”

-ফারদিন হাসান সিয়াম

শাহরিয়ার গালিবের সিনেমাটোগ্রাফি’

শাহরিয়ার গালিব Chattogram  BGMEGA Institute of Fashion and Technology এর বিএসি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। খুব আগ্রহী হয়ে যে-কোনো কাজ করেন তিনি। এভাবেই কোনো পরিকল্পনা ব্যতীত সিনেমাটোগ্রাফি  শুরু করেন। তিনি তার কাজের মধ্যে অন্যতম এক প্রতিভার প্রতিফলন দেখতে পান আর যা এখন তার এই কাজের প্রতি ভালোবাসার অন্যতম এক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 কোনো প্রকার উদ্দেশ্য ছাড়াই শখের বশেই শুরু করেন সিনেমাটোগ্রাফি। প্রথম দিকে কোনো মূল্যবান ক্যামেরা ছিল না তার কাছে। তাই নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সাহায্যেই এই ভিডিয়োগুলো বানাতে শুরু  করেন। পরবর্তীতে তিনি VFX ও CGI কাজ শেখেন যা তার সিনেমাটোগ্রাফির ভিডিয়োগুলো তৈরি করতে ব্যাপক অবদান রাখে।
সম্প্রতি তার এক বক্তব্য থেকে জানা যায়, সিনেমাটোগ্রাফির করা কাজটির প্রতি দর্শকদের  কাছ থেকে পেয়েছেন অপরিসীম ভালোবাসা, যা তার এই কাজের প্রতি ভালো লাগার জায়গাটি   তিন গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। খুব ছোটো থেকেই হলিউড সিনেমা দেখতে ভালোবাসতেন আর তখন থেকেই সিনেমা তৈরির বিষয়টি তার মাথায় আসে। জেমস ক্যামেরনের তৈরিকৃত সিনেমাগুলো থেকেই তিনি সিনেমাটোগ্রাফি করার প্রতি আগ্রহী হন।
বর্তমানে তার কাজের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখে তিনি তার শখের বশে শুরু করা এই কাজটিকে ভবিষ্যতে পেশাগত দিক থেকেও প্রয়োগ করতে চান। তিনি ভিডিয়োগুলো তৈরি করতে যে যে জিনিসগুলো ব্যবহার করেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 2 mid ramgo DSLR, 1 soft box, 2 led video light, Reflector and studio microphone। 
সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে সম্প্রতি তার এক বক্তব্যের কিছু মতামত তুলে ধরা হলো, “আমার মনে হয় আমাদের নতুন জেনারেশনকে যদি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তারা এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে। দরকার শুধু একটু সুযোগ আর একটা ভালো প্লাটফর। আর আমার মতো নতুন ফিল্মমেকার যারা আছে তাদের জন্য – If you truly love film from your heart, you can make good movies with whatever you have.              – Quentin Tarantino
তিনি তার কাজকে নিয়ে   অনেক দূর এগিয়ে  যেতে পারেন যেন আমরা সেই আশায় আশাবাদী। প্রত্যাশা করছি আগামী দিনের কাজ গুলো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। Castway On The Moon এই জনপ্রিয় গ্রুপটির পক্ষ থেকে রইলো আপনার জন্য অনেক বেশি শুভকামনা। 


-সামান্তা তাসনিম ঐন্দ্রিলা।

শখের ফেরিওয়ালা শুভেন্দু! 

অবসর সময়ে কী করতে ভালোবাসো ? অথবা তোমার শখ কী? —  এমন প্রশ্নের উত্তর এক একজনের কাছে এক এক রকম। শৈশব থেকেই মানুষ লালন করে নানা ধরনের শখ। জীবনকে সুন্দর ও উপভোগ্য করতে , প্রতিদিনের রোজনামচার একঘেয়েমি দূর করে  জীবনকে আনন্দময় করতে শখ যেন টনিকের মতোই কাজ করে।
তেমনই একজন শখের ফেরিওয়ালা ইন্ডিয়ার হাওড়ার শুভেন্দু পারাল । রমসদয় কলেজের জিওগ্রাফি তে অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ুয়া একজন ছাত্র শুভেন্দু । ছেলেবেলা থেকেই শুভেন্দুর মাথায় চেপেছিল ছবি আঁকার ভূত। অদম্য শুভেন্দুকে থামায় কার সাধ্য! আর তাই তো জিওগ্রাফি নিয়ে শিক্ষাজীবন এগোলেও শখের আঁকিয়ে শখের বশেই হয়ে উঠলেন একজন অসামান্য চিত্রশিল্পী । 
ছবি আঁকাতে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নেই শুভেন্দুর। জানা নেই চিত্রাঙ্কনের ব্যাকরণ। নিজের অদম্য চেষ্টায় সবকিছু শিখেছেন তিনি। নানান বিষয়বস্তু নিয়ে ছবি আঁকেন শুভেন্দু। সাধারণত পোর্ট্রেট , ল্যান্ডস্কেপ প্রভৃতি ধরনের ছবি অঙ্কন করতে তিনি স্বচ্ছন্দ। তবে পোর্ট্রেট তাঁর সবচেয়ে পছন্দের আর ভালোলাগার বিষয়। অসাধারণ  শিল্পকর্মে ইতোমধ্যেই তিনি মুগ্ধ করেছেন অনেককেই। অল্প সময়েই পেয়েছেন মানুষের অগুনতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং পরিচিতিও!
শুধু কী তাই ! ধীরে ধীরে ছবি আঁকায় শুভেন্দু  ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে । তার অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কারই এর প্রমাণ বহন করছে। চিত্রশিল্পী শুভেন্দুর সেরা অর্জন —  বিএম ফাইন আর্ট এবং কালচার পরিচালিত ” ন্যাশনাল আর্ট এক্সিবিশন ২০২১ “-এ প্রথম ১০০ জন চিত্র শিল্পীর মধ্যে শুভেন্দুও একজন। 
সত্যজিৎ রায়ের ১০০ তম জন্মদিন

উপলক্ষ্যে আঁকা তার সম্প্রতি জনপ্রিয় চিত্রকর্মের একটি। এ ছবির বিশেষত্ব ছিল তিনি  ১০০ টি A4 সাইজের পৃষ্ঠাতে ১০০টি খণ্ডে ছবিটি এঁকেছিলেন মাত্র তিন দিনে , যা কোনো সহজ ব্যাপার নয়। চারকোলে আঁকা ৯.৪/৭ ফুটের এই স্কেচটি সকলের অজস্র ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিল।
ছবি আঁকা নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন — ” ভবিষ্যতে আঁকা নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে চাই।” এই আঁকাআঁকির নেশাকে পেশা হিসেবেও গ্রহণ করার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান তিনি । এছাড়াও জানালেন – “যেখানেই থাকি না কেন, আঁকাআঁকির সাথে লেগে থাকবো। কারণ ছবি আঁকা আমার একটা বিশাল ভালোবাসার জায়গা।” 
বর্তমান সময়ে তার ব্যস্ততা কী নিয়ে?—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান — পড়াশোনার পাশাপাশি যখনই সময় পান স্কেচ নিয়ে বসেন। সময় পেলেই আঁকেন নানান ছবিও। এই অতিমারির ঘরবন্দি অবস্থায় ছবি আঁকাতেই কাটছে তার বেশিটা সময়।তার পরিবার থেকেও তিনি পান যথেষ্ট সমর্থন ও সহযোগিতা।
এই পথে কেন এসেছেন ? — এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান — ভালোলাগা থেকেই ছবি আঁকার শুরু । ছবি আঁকতে ছোটোবেলা থেকেই ভালোবাসেন তিনি। যে-কোনো ছবি কাগজে আবদ্ধ করতে , ফুটিয়ে তুলতে ভীষণ ভালো লাগে তার।  নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন — ” অনেকেই নিরুৎসাহিত করবে স্কেচ করে কী হবে, এই বলে । তাদের কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।  নিজের চিত্রকর্ম বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে ।” 
আমাদের চারপাশে এমন অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে। অযত্ন-অবহেলায় চাপা পড়ে যায় অনেক প্রতিভা। অনেকের সমালোচনা উপেক্ষা করে শুভেন্দু চালিয়ে যাচ্ছেন চিত্রাঙ্কন। আশা রাখছি , তিনি ভবিষ্যতে এ জগতে আরও সফলতা অর্জন করবেন । অনেকের জন্য হয়ে উঠবেন ‘রোল মডেল’।মনের গভীর থেকে তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করছি।


-আবসারাহ্ ফাইরুজ 

ফ্রেমের পিছনের মানুষ তূর্য

“আবার কোন পাগলে ধরছে তোকে!” বাবার এ ঝাড়িই যেন ফটোগ্রাফির প্রতি আরো বেশি ঝোঁক আর জেদ বাড়িয়ে তুলেছিল ফারহানের।  আর বারবার ব্যর্থতার পরেও সেই জেদ থেকেই সম্প্রতি ফ্রেমবন্দি করতে পেরেছেন আকাশ ফাটা বজ্রপাতের ছবি যা নেটদুনিয়ায় রীতিমতো প্রশংসার জোয়ারে ভাসাচ্ছে ফারহানকে। 

ফারহান ওবাইদি তূর্য পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। ছোটোবেলা থেকেই পোস্টার-পত্রিকার ছবিগুলো খুঁতিয়ে খুঁতিয়ে দেখতেন আর ভাবতেন কীভাবে ওরা একটা জিনিসকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করল! এই ভাবনা থেকেই ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহ জন্মায় ফারহানের।  সে সময় ক্যামেরা এত সহজলভ্য ছিল না, আবার মোবাইলেও ছবি তোলার জন্য এখনকার মতো সুব্যবস্থা ছিল না।  তাও বাসার মোবাইলটা হাতে নিয়েই সামনে যা ভালো লাগত, তা-ই ক্যাপচার করতেন তিনি,, আর বাসায় এসে বাবা-মাকে দেখাতেন।  ছোটোছেলের এমন অদ্ভুত শখ দেখে বাবা-মাও বেশ মজা পেতেন।।
২০০৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর প্রথম হাতে ক্যামেরা পেলেন ফারহান। এখন তাকে আর ঠেকায় কে! Sony Cyber Shot Camera দিয়েই হাতেখড়ি। শখের বসে শুরু হলেও আস্তে আস্তে ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে ফারহানের। আশেপাশের সৌন্দর্যগুলোকে নিজের মতো করে ফ্রেমবন্দি করতে থাকলেন তিনি। ছবিগুলো বন্ধু বান্ধব, ফ্যামেলিকে দেখালেও কোথাও পোস্ট করা হতো না তার। এরপর করোনাকালীন লকডাউনে বসে ২০২০ এ প্রথম অনলাইন প্লাটফরমে ছবি পোস্ট করেন তিনি। প্রথম ছবি দিয়েই বাজিমাত। এরপর একে একে নিজের সেরা ছবিগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে থাকেন। অনেক ভালোবাসা পায় তার ছবিগুলো। ক্যাস্টএওয়ে অন দ্যা মুন গ্রুপেও নিয়মিতই পোস্ট করেন তিনি। এই লকডাউনে আত্মপ্রকাশ তার, তাই নিজেই নিজের নাম দিয়েছেন করোনা টাইম ফটোগ্রাফার।

অনলাইন প্লাটফরমে পাবলিকলি ছবি পোস্ট করায় প্রশংসার পাশাপাশি অন্যদের দিকনির্দেশনা তার আরও ইমপ্রুভমেন্টে সহায়তা করেছে পাশাপাশি ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহও দ্বিগুণ করে তুলেছে। এমনটাই জানান তিনি।।
তার সবচেয়ে জনপ্রিয় থান্ডারস্ট্রোমের ছবিটি ফ্রেমবন্দি করা মোটেও সহজ ছিল না তার জন্যে। ঝড়ের মধ্যে বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রথম যেদিন বজ্রপাতের ছবি ক্যাপচার করতে যান কোনোভাবেই পারফেক্ট শট হচ্ছিল না, কখনও লেন্সে পানি পড়ে নষ্ট হচ্ছিল, কখনোবা ক্যামেরা নড়ে ফোকাস হচ্ছিল না। কিন্তু হার না মেনে একের পর এক চেষ্টা করে করে অবশেষে ফ্রেমবন্দি করেন সেই বিদ্যুৎ চমকানোর দুর্লভ দৃশ্য। প্রচণ্ড মনোবল থাকলে যে সবই সম্ভব সেটা তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন।

ফটোগ্রাফির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশকিছু পুরস্কার পেলেও 1st ABP International Photography Competition & Exhibition থেকে ফারহানের ২টা ছবি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রকলা প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হওয়া তার ফটোগ্রাফি থেকে পাওয়ার ঝুলিকে করেছে সমৃদ্ধ। বর্তমানে ভালো দামেই তার বেশ কিছু ছবি বিক্রিও হচ্ছে।

নতুনদের উদ্দেশ্য করে ফারহান বলেন, “কেউ প্রথম ক্লিকেই জোস ছবি তুলে না,  ক্লিক করেই যেতে হয়, প্রতি মুহূর্তেই ইম্প্রুভমেন্ট আসবে। আর দামি বা কমদামি ক্যামেরা বলে কিছু নেই। তুমিই এখানে চালক, তুমি যেভাবে চালাবা ছবি সেভাবেই উঠবে।”

-মো. সাকিবুল ইসলাম সাকিব

গানের সাথেই আরিয়ান

‘শখ’ এ শব্দটি শুনলেই সবার ভেতর অন্য ধরনের এক অনুভুতির ঢেউ খেলে। শখ এমন একটা জিনিস যার মাধ্যমে দূরীভূত হয় মানব জীবনের একঘেয়েমি; খুঁজে পায় শান্তির আবাস। মানুষ যখন থেকে বুঝতে শেখে, তখন থেকেই লালন করে এই শখ। এক একজন মানুষের এক এক ধরনের শখ থাকে। তারই মধ্যে অন্যতম একটি শখ হল গান গাওয়া।
মানুষের অভ্যন্তরীণ শব্দগুলো প্রকাশ করার এক অনন্য মাধ্যম ‘গান’। বাংলাদেশের অনেক তরুণ-তরুণী রয়েছে যারা গান গেয়ে কুড়িয়েছে  অনেক সম্মাননা; পেয়েছে অজস্র ভালোবাসা। সেই এক ঝাঁক তরুণ-তরুণীর মধ্যে এক তরুণ গায়কের কথা আজ বলা যাক।
চট্টগ্রামের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুলের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র আরিয়ান চৌধুরি। তার পিতাকে দেখে ছোটোবেলায় তিনি গান গাওয়ার প্রতি উদ্‌বুদ্ধ হয়েছিলেন। তার পিতা হচ্ছেন একজন বেস গিটারিস্ট, যার ফলে তার ছোটোকালেই শেখা হয় গিটার বাজানো। কিন্তু গান গাওয়া তখনও হয়ে ওঠেনি। হয়েছিল ২০১৮ সাল থেকে। এই অল্প তিন বছরে তিনি করেছেন বেশ উন্নতি। কুড়িয়েছেন অজস্র সম্মান। গান গাওয়াটাকে তিনি তার শখ হিসেবে নিয়ে থাকলেও, ভবিষ্যতে এটাকে তার পেশাগত জীবনের অন্তর্ভুক্ত করতে চান।
গানই কেন? এর প্রত্যুত্তরে তিনি জানান-তিনি ফটোগ্রাফিও করেন মোটামুটি, কিন্তু গান গাওয়ার মধ্যে তিনি শান্তি খুঁজে পান; খুঁজে পান মনের আনন্দ। তিনি বিশ্বাস করেন, তিনি এই ধরাতে এসেছেন গান গাওয়ার জন্য। গান তার রক্তে মিশে আছে। প্রত্যুত্তরে তিনি আরও বলেন-তার কাছে তার অভ্যন্তরীণ কথা ও অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম গান।
একপর্যায়ে যখন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলাম, তখন তিনি বলেন, “আমি আমার গান দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হতে চাই এবং আমার মূল উদ্দেশ্য হলো আমার গানের মধ্য দিয়ে কিছু ভালো বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সকলের মাঝে।”
তিনি যেন তার এই কাজকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন বহুদূর এই প্রত্যাশাই আমাদের আগামী দিনের কাম্য। 
লিখেছেন:জিয়াউর রহমান 

পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে নিজেকে এ অবস্থানে দেখতে চাইলে করণীয়:

১. সিওটিএম গ্রুপে সপ্তাহজুড়ে আপনার বেস্ট আর্টওয়ার্কগুলো পোস্ট করতে হবে।
২. ক্যাপশনে আপনার পরিচিত ন্যূনতম ৫জন বন্ধুকে মেনশন করার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্ট করার জন্য নমিনেট করতে হবে।
৩. ক্যাপশনে অবশ্যই #cotmofficials হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় আপনি এই চ্যালেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবেন না।

2 COMMENTS

  1. অভিনন্দন প্রথম সপ্তাহের সেরা পাঁচ জন আর্টিস্টকে!❤

Comments are closed.

Latest article