Lets read Newspaper
together

সব আয়োজনের খবরাখবর এক জায়গায়

শুভ জন্মদিন ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার

on

|

views

and

comments

কিংবদন্তি হতে আমগাছে উঠতে হয়। কিংবা টেবিল টেনিস খেলতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এই ধরুন ছয় ঘণ্টা। নাহ, মোটেও রসিকতা হচ্ছে না। শচীন টেন্ডুলকার হতে চাইলে শৈশবটা এমন রঙিন হতে হয়। আমগাছে ওঠার অভ্যাসটা ‘বদভ্যাস’-এ রূপ নেওয়ায় বড় ভাই অজিত তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন ক্রিকেট মাঠে। এরপর একের পর এক ইতিহাস এঁকেছেন মাঠে, ক্রিকেট-বিশ্ব মাথায় করে রেখেছে সেসব ছবি। তাকে নিয়েই জানবো আজকের এই পোস্টে। Early life of Sachin Tendulkar:১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে এপ্রিল নির্মল নার্সিং হোমে শচীন টেন্ডুলকার জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রমেশ টেন্ডুলকার একজন মারাঠি ঔপন্যাসিক ছিলেন। তার মাতা রজনী টেন্ডুলকার। রমেশ বিখ্যাত ভারতীয় সুরকার শচীন দেববর্মণের নামানুসারে তার নাম শচীন রাখেন। শচীনের দুই দাদা নিতিন ও অজিত এবং দিদি সবিতা রমেশের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সন্তান। প্রথম জীবনে শচীন বান্দ্রা অঞ্চলে বসবাস করতেন।শচীনের শিক্ষাজীবন সম্পর্কে তেমন একটা বিশেষ তথ্য আমাদের প্রত্যেকেরই কাছে অজানা | কিন্তু যতদূর জানা যায়, তিনি মুম্বইয়ের সারাদাশ্রম বিদ্যামন্দির হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে মাত্র দশম শ্রেণী অবধি পড়েন | পড়াশোনায় তিনি খুব একটা ভালো ছিলেন না, এর স্পষ্ট প্রমান তার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল থেকেই পাওয়া যায় | কারণ সেই পরীক্ষা তিনি তিনবার দিয়েছিলেন এবং পরপর তিনবারই চূড়ান্ত ব্যর্থ হন | হিসাব মতো তিনি একজন ক্লাস নাইন পাস ছাত্র |Cricket Career of Sachin Tendulkar:শচীন কিন্তু প্রথম জীবনে একজন টেনিসপ্রেমী ছিলেন আর সেই খেলা নিয়েই জীবনে এগোতে চেয়েছিলেন | তার পছন্দের টেনিস তারকার নাম ছিলো জন ম্যাকেনরো, যিনি কিনা টেনিস দুনিয়ার সর্বকালের একজন সেরা খেলোয়াড় ছিলেন | কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শচীনের সেই খেলা আর জীবনে শেখা হয়ে ওঠেনি, কারণ তার দাদা অজিত টেন্ডুলকার তাকে ক্রিকেট খেলায় ভর্তি করে দেন দাদারের শিবাজী পার্ক অঞ্চলের বিখ্যাত ক্রিকেট কোচ রমাকান্ত আচারেকরের কাছে |প্রথম প্রথম শচীন টেন্ডুলকারের পারফরমেন্স তেমন একটা ভালো ছিলোনা। অনেক শেখানোর পরও তিনি তেমন একটা ভালো খেলতে পারছিলেন না, যা দেখে কোচ আচারেকর তাকে আর খেলা শেখাতে চাননি। কিন্তু দাদা অজিতের বার বার অনুরোধ করার পর, অবশেষে কোচ আচারেকর শচীনকে শেষ সুযোগ দেন |তিনি এবার তার খেলা দেখার জন্য একটা গাছের পিছনে লুকিয়ে পরেন, কারণ তিনি আন্দাজ করতে পেরেছিলেন যে শচীন তাকে দেখলে নার্ভাস হয়ে যায় এবং এরফলে খেলতে পারেনা ভালোভাবে। পরে অবশ্য তার এই আন্দাজই সত্যি হয়। কারণ যখন তিনি গাছের পিছনে লুকিয়ে যান, তখন শচীন সেই খেলাটা দারুন ও সাবলীলভাবে খেলেন | এরপর কোচ আচারেকর সেটা দেখে তার সমস্যা বুঝতে পারেন এবং তাকে সেই সমস্যা দূর করতে সাহায্যও করেন। ভালো হতে শুরু করে, তখন কোচ তার সেই খেলার উন্নতির জন্য তাকে সারাদাশ্রম বিদ্যামন্দির হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ সেই স্কুলের ক্রিকেট দল মুম্বইয়ের মধ্যে খুব নাম করা ছিলো এবং সেই স্কুলের হয়ে খেলতে পারলে শচীনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার আরো এগোবে বলে তিনি ভেবেছিলেন। এরপর তিনি স্কুল টিমের হয়ে ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি, মুম্বাইয়ের অনান্য প্রসিদ্ধ টিমের হয়েও খেলা শুরু করে দেন। সেইসময় তিনি ব্যাটিং করার পাশাপাশি বোলিং করার পিছনেও বিশেষ মন দেন এবং নিজের বোলিং স্কিলকে আরো ভালো করার জন্য ১৯৮৭ সালে চেন্নাইতে, মাত্র ১৪ বছর বয়সে এম.আর.এফ পেস ফাউন্ডেশান যান। যেখানে তখনকার সময়য়ের নামকরা অস্ট্রেলীয় পেস বোলার ডেনিস লিলি সবাইকে বোলিং প্রশিক্ষণ দিতেন। কিন্তু তিনি শচীনের ব্যাটিং দেখে তাকে একজন ভালো ব্যাটসম্যান হওয়ার পরামর্শ দেন। যা পরবর্তীকালে তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। Cricket Career of Sachin Tendulkar:মাত্র ১৫ বছর বয়সে এরপর শচীন টেন্ডুলকার মুম্বাই দলে সুযোগ পেয়ে যান। ১৯৮৮ সালে তিনি গুজরাটের বিরুদ্ধে প্রথম ১০০ রান করেন এবং তারপর সেই একই বছর দিলীপ ট্রফি, ইরানী ট্রফি আর রঞ্জি ট্রফিতে লাগাতার একের পর এক সেঞ্চুরি করতে থাকেন আর হয়ে যান ভারতের প্রথম একজন নজির গড়া ব্যাটসম্যান। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮৯ সালে, শচীন ভারতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পেয়ে যান এবং করাচিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের জার্সিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। অবশ্য সেই ম্যাচে তিনি একদম ভালো খেলতে পারেননি, মাত্র ১৫ রানে সেদিন আউট হয়ে যান | কিন্তু পেশোয়ারে সেই সিরিজের পরের ম্যাচে তাকে আবার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই খেলায় তার নাকে চোট লাগে জোরে বল লাগার জন্য কিন্তু তবুও তিনি শেষ পর্যন্ত খেলেন এবং ভারতের হয়ে ৫৪ রানও করেন। তারপর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯০ সালে শচীন অবশেষে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করতে সফল হন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে | আর সেখানে তার অসাধারণ ব্যাটিং পারফরমেন্সকে দেখে সারা ক্রিকেট বিশ্ব একেবারে মুগ্ধ হয়ে যায় এবং তার তুলোনা প্রাক্তন সময়কার সব প্রসিদ্ধ ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সাথে করতে থাকে | ১৯৯১-১৯৯২ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরেও শচীন দূর্দান্ত খেলেন এবং সেখানে একটা খেলায় তিনি ১৪৮ রান করেন |১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ টুর্নামেন্টে, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের শোয়েব আখতারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শচীন রান আউট হয়ে যান | যা দেখে কলকাতার দর্শকরা ক্ষোভে একদম ফেটে পরেন আর সেইজন্য খেলা বন্ধ করে দিতে হয় ।কিন্তু কিছুক্ষণ পর, শচীনের আবেদনে দর্শকেরা শান্ত হন এবং আবার খেলা শুরু হয় । সেই প্রতিযোগীতায় শচীন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরিও করেন। সেই বছরই আবার ইংল্যান্ডে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় | আর সেই বছরেই বিশ্বকাপ চলাকলীনই শচীনের বাবা রমেশ টেন্ডুলকারের মৃত্যুও হয় | যারজন্য তাকে প্রতিযোগীতার মাঝেই বাবার সৎকারের জন্য ভারতে ফিরে আসতে হয় । শ্রাদ্ধাদি অনুষ্ঠানের পর তিনি পুণরায় প্রতিযোগীতায় যোগ দেন এবং পরে ম্যাচে কেনিয়ার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৪০ রান করেন | আর সেই রান তিনি সেদিন তাঁর বাবাকে উৎসর্গও করেন |

এরপর ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শচীন আবারও দূর্দান্ত খেলেন ও নিজের দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যেতে সফল হন কিন্তু সেইবছর তার দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি | অস্ট্রেলিয়া দল, ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ী হয় | তখনকার সময় ভারতের অধিনায়ক ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী | কিন্তু বিশ্বকাপ না জিতলেও সেই টুর্নামেন্টে শচীন টেন্ডুলকার ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট হন | গোটা টুর্নামেন্টে তিনি মোট ৬৭৩ রান করেছিলেন | অবশেষে তার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয় ২রা এপ্রিল ২০১১ সালে | সেই বছর মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে টিম ইন্ডিয়া দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম হয় | গোটা টুর্নামেন্টে শচীন তেন্ডুলকারের মোট রানসংখ্যা ছিলো ৪৮২ রান | এরপর পরের বছর ২০১২ সালের ১৬ই মার্চ তারিখে, অবশেষে তিনি তার শততম সেঞ্চুরি করতে সক্ষম হন | যেটা ক্রিকেট ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত সর্বাধিক সেঞ্চুরি করার রেকর্ড | আর এতবছর পরেও এই রেকর্ড এখনো অবধি বিশ্বের দ্বিতীয় কোনো ক্রিকেটার ভাঙ্গতে পারেননি |Awards of Sachin Tendulkar:১. ১৯৯৪ সাল: অর্জুন পুরস্কার২. ১৯৯৭ সাল: রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার ও উইজডেন ক্রিকেটার্স অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার৩. ১৯৯৮ সালে: উইজডেন ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড পুরস্কার৪. ১৯৯৯ সাল: পদ্মশ্রী পুরস্কার৫. ২০০১ সাল: মহারাষ্ট্র ভূষন পুরস্কার৬. ২০০৮ সাল: পদ্মবিভূষণ পুরস্কার৭. ২০১০ সাল: স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি পুরস্কার, লন্ডন স্পোর্ট এন্ড দ্য পিপল্‌স চয়েজ পুরস্কার৮. ২০১১ সাল: BCCI কর্তৃক ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার৯. ২০১২ সাল: উইজডেন ভারত সর্বসেরা কীর্তি পুরস্কার১০. ২০১৪ সাল: ভারতরত্ন পুরস্কারদিন‌শে‌ষে জানাই শুভ জন্মদিন, শচীন টেন্ডুলকার!

Share this
Tags

Must-read

Renowned physics teacher Maksudul Hossain Jewel to join INTEL

Maksudul Hossain Jewel, the well-known physics teacher of Bangladeshi online education platform OnnoRokom Pathshala, has got an offer from world's one of the best...

NNO has been nominated for Monsta Award !

To vote NNO - Visit this link: https://gomonsta.asia/the-story-of-a-black-and-white-paper/ 

বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশের তাকরিম

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় আবারও বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের খুদে হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় আয়োজিত ৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল...
spot_img

Recent articles

More like this

1 COMMENT

  1. Hmm it looks like your site ate my first comment (it was extremely long) so I guess I’ll just sum it up what I had written and say,
    I’m thoroughly enjoying your blog. I too am an aspiring
    blog writer but I’m still new to everything. Do you have any points
    for beginner blog writers? I’d definitely appreciate it.

Comments are closed.