শিক্ষা আইনের খসড়া মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায়: বাতিল হচ্ছে সকল গাইড বই

Must read

শিগগির শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ আইনে নোটবই ও গাইড বই ছাপানো, প্রকাশনা ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাআইন দীর্ঘ দিনেও চেষ্টা করে করা যায়নি। এখন সেটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের দিক থেকে আমরা চূড়ান্ত করেছি। এটি মন্ত্রিপরিষদে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। শিক্ষাআইনটি হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো আমরা কমিয়ে আনতে সক্ষম হবো।’

তিনি বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় শিক্ষাকে মূল হাতিয়ার ভাবছি আমরা। বঙ্গবন্ধুর যে শিক্ষা ভাবনা ছিল, তার গঠিত ড. কুদরত-ই-খোদা শিক্ষা কমিশনের যে শিক্ষা আমরা পাই, তার আলোকে ২০১০ সালে আমরা যে শিক্ষানীতি করেছি, তা অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। এর বিপরীতে শিক্ষাব্যবস্থায় একটি অংশ বিশেষত কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কওমিদের যে কর্মকাণ্ড—সেগুলো সকল আলোচকের মাধ্যমে উঠে এসেছে। একদিকে দেশটিকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আরেকদিকে একটি চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সেই কাজের জন্য বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলোর শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে শিশুদের যুক্ত করা হচ্ছে। নারী, শিশু, কিংবা ধর্মীয় সংখ্যালঘুবিদ্বেষী, আমাদের জাতীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিদ্বেষী করে শিক্ষার্থীদের তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো খুবই উদ্‌বেগজনক।”

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা তাদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে প্রাইভেট টিউশনির মাধ্যমে পড়াতে পারবেন না। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়ার ওপরেও আসছে নিষেধাজ্ঞা।

কর্মকর্তারা জানান, খসড়া আইনে নোটবই ও গাইডবই ছাপানো, প্রকাশ ও বিপণনের জন্য অপরাধীকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, যদি কোনো শিক্ষক তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নোট বই অথবা গাইড বই কিনতে বাধ্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Latest article