Lets read Newspaper
together

সব আয়োজনের খবরাখবর এক জায়গায়

রোটা ভাইরাস হতে পারে মৃত্যুর কারণ

on

|

views

and

comments

এক শিশুর মল থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যে ভাইরাস অন্য শিশুর শরীরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশ করার এক থেকে তিনদিনের মধ্যে শিশুটির বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর, পেটব্যথা ইত্যাদি শুরু হয় তাকেই বলা হয় রোটা ভাইরাস। এটি ভাইরাসজনিত একটি রোগ। যা শিশুদেরই বেশি হয়ে থাকে। মলের নমুনা সংগ্রহ করে এলাইজা বা পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা যায় এই ভাইরাস। যদি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে জানাও যায় যে রোটাভাইরাস থেকেই ডায়রিয়া হয়েছে, তবুও এর কোনও সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরালের কোনো ভূমিকা নেই এক্ষেত্রে। মূলত ওআরএস বা প্রয়োজনে স্যালাইন দিয়েই চিকিৎসা করা হয়। তাহলে প্রতিরোধের উপায় কী?রোটাভাইরাস টিকাই প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। মূলত শীতকালে শিশুদের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার জন্যই দায়ী এই ‘রোটা’। দুই বা তিন ডোজের রোটা ভাইরাস ভ্যাকসিন নিয়েই শিশুকে নিরাপদে রাখা যায়। প্রকৃতপক্ষে, যে-সকল শিশুদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে, তারাই বেশি রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় । আর দুই বছরের কম বয়সি শিশুরা আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকে। যখন রোটা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ডায়রিয়ায় রোগী আক্রান্ত হয়, তখন উক্ত রোগী খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি অনেকের মৃত্যুও ঘটে। তবে বর্তমানে রোটা প্রতিরোধে হাসপাতালগুলোতে রোটা রিক্স ও রোটা টেক নামে দুই ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগই রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে অসুস্থ হয়। গ্রীষ্ম বা বর্ষায় ডায়রিয়ার কারণ হয়ে থাকে ব্যাকটেরিয়া। এই ভাইরাসটি শিশুদের জন্য খুবই ভয়াবহ। সাধারণত রোটার মূল কারণ হিসেবে শিশুর খাদ্যাভাবকেই তুলে ধরা হয় আর তাই শিশু কী খাচ্ছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে । কিছু ধরার পরে শিশু মুখে আঙুল দিচ্ছে কি না সেটি খেয়াল রাখতে হবে। আর বাইরে থেকে কেনা খাবার খাওয়ানোর সময় অবশ্যই বিশুদ্ধ খাবার খাওয়ানো হচ্ছে কি না তা ভালো করে দেখে নিতে হবে। এছাড়াও বাচ্চাকে ফুটানো পানি পান করানো, পায়খানার পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ানো, রাস্তাঘাটের খোলা খাবার পরিহার করানো, বাচ্চাদের এটা-সেটা মুখে দেওয়া থেকে বিরত রাখা ইত্যাদি রোটা ভাইরাস রোগের সংক্রমণে বাধা প্রদান করবে। শৌচকাজ সারার পর ছোটো থেকে বড়ো সবারই ভালোভাবে জীবাণুমুক্তকরণ সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। কেননা রোটার সংক্রমণ শৌচ এর জীবাণু থেকেই ঘটে থাকে। আবার, শিশুটির হাত থেকে রোটা ভাইরাস জীবাণু তার খেলনা, খাবার প্লেট, যে-কোনো স্থানে ছড়াতে পারে, সেহেতু সর্বদা শিশুদেরকে পরিষ্কার রাখতে হবে। গ্রামাঞ্চলে যেখানে এখনও টয়লেট নেই, সেখানে এ রোগ ছড়ানোর হার অত্যন্ত বেশি। রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুর মল কাপড়, জুতো বা পায়ে লেগেও ছড়াতে পারে। তাই সর্বদা সাবধানতা অবলম্বন করে চলতে হবে। এই রোগ সাধারণত শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা দেয়। কিন্তু আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে যারা থাকে বিশেষ করে মা বাবা, ভাই বোন, অন্যান্য আত্মীয় বা ডে কেয়ারের কর্মচারীদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। উদ্‌বিগ্নতা, কান্না করার পরও চোখে পানি না আসা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা ডায়াপার পরালে তা শুকনো থাকা, ক্লান্তি, ঠোঁট শুকনো থাকা, প্রচণ্ড ঘুম পাওয়া, ত্বক শুষ্ক ও বিবর্ণ হওয়া ইত্যাদি হলো এই রোগের লক্ষণ। রোটা ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক রোগ। এটি শিশুর মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। তাই কিছু লক্ষণ দেখা দিলেই তাকে অতি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দেশে শিশুদের ডায়রিয়ার জন্য দায়ী প্রধান চারটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে বর্তমানকালে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে এই রোটা ভাইরাস। রোটা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মানুষের শরীরে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। আক্রান্তদের উপসর্গ হিসেবে প্রথমে শুরু হয় বমি। এরপর পাতলা পায়খানা। খুব কম সময়ের মধ্যে ডায়রিয়া তীব্র আকার ধারণ করে এবং পানিশূন্যতা এত বেশি হয় যে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া না গেলে প্রাণহানির আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে। জ্বর ও পেটব্যথাও থাকতে পারে। ৯ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে বমি ও জ্বর। ডায়রিয়া থাকতে পারে ২১ দিন অবধি। রোটা ভাইরাস অর্গানাইজেশন অব টেকনিক্যাল অ্যালাইজ (আরওটিএ) পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২৪ লাখ শিশু রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। রোটা ভাইরাস নিয়ে ২০১৬ এর এক গবেষণায় দেখা যায় যে, ডায়রিয়াজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুর প্রায় ৫০ শতাংশ রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত। ২০১২ সাল থেকে সরকারি কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী সাতটি বিশেষায়িত হাসপাতালে এ রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Share this
Tags

Must-read

ছোট্ট জুবায়েরর কিবোর্ডে ছুটে চলা

বর্তমানে ডিজিটাল যুগে এখন পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝোক ডিজাইন ডিভাইস আয়ত্তকরণ করা। আর ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে বর্তমানে শেখা যাচ্ছে নানা ধরনের নতুন প্রযুক্তির সব...

বইমেলায় আসছে মোহনা ইসলাম ডিনা’র ‘মেঘপুঞ্জ’

আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৩-এ আসছে তরুণ কবি ও লেখিকা মোহনা ইসলাম ডিনার প্রথম কবিতার বই “মেঘপুঞ্জ’’। বইটি প্রকাশ করছে দুয়ার প্রকাশনী। বইটির প্রচ্ছদ...

পর্দা নামলো তৃতীয় কৃষি বিতর্ক উৎসবের

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সংঘের আয়োজনে ৩য় কৃষি বিতর্ক উৎসব ২০২৩ এর জমকালো পর্দা নেমেছে। ৬ ও ৭ জানুয়ারি রোজ শুক্রবার ও শনিবার উৎসবের ট্যাব...
spot_img

Recent articles

More like this