বরিশাল এক্সপ্রেস ট্রেন

Must read

ট্রেনের নাম বরিশাল এক্সপ্রেস। নাম শুনলেই চোখ কপালে ওঠাই স্বাভাবিক। কারণ বরিশাল তো দূরের কথা সমগ্র বরিশাল বিভাগের কোথাও রেললাইন নেই।

বরিশাল এক্সপ্রেস ট্রেন মূলত কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বাংলাদেশের খুলনা স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করতো। শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে বনগাঁও, বেনাপোল, যশোহর হয়ে বাংলাদেশের খুলনায় আসত ট্রেনটি।

১৮৮১ সালের জুলাই মাস। ইউরোপে রেল ব্যাবসা বেশ জমজমাট। এদেশে রেল পরিচালনা করতো ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে। এর সহায়ক সংস্থা বেঙ্গল সেন্ট্রাল রেলওয়েকে দেওয়া হয় শিয়ালদহ থেকে যশোহর হয়ে খুলনা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের দায়িত্ব। প্রথমে দমদম থেকে দত্তপুকুর হয়ে বনগাঁও ও পরে বনগাঁও থেকে যশোহর হয়ে খুলনা পর্যন্ত রেললাইন তৈরি করা হয়। ১৮৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এ রেলপথের কাজ শেষ হয়। ১৮৮৪ সালের এপ্রিলে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এই রুটে চলাচলকারী প্রথম ট্রেনের নাম বরিশাল এক্সপ্রেস।

ট্রেন বরিশাল না গেলেও কেন এর নাম বরিশাল এক্সপ্রেস তার সঠিক কারণ জানা যায় নি। বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্ত তৎকালীন নৌযান চলাচল করতো। এগুলোর সময় ট্রেনের সময়ের সাথে মিল রেখে ঠিক করা হয়েছিল। এ থেকে ধারণা করা যায় বরিশালের মানুষদের কলকাতায় যাওয়া সহজ করার জন্যই এই ট্রেন চালু করা হয়।

বাংলা সাহিত্যেও এই ট্রেনকে খুঁজে পাওয়া যায়। অমিয় কুমার ঘোষের লেখা ‘রূপসী রূপসার ইতিকথা’ উপন্যাস, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথিকের বন্ধু’, ‘অপ্রকাশিত দিনলিপি’ প্রভৃতিতে এটা সম্পর্কে লেখা হয়েছে। এর রং কী ছিল তা জানা যায় অমর মিত্রের ‘শূন্যের ঘর শূন্যের বাড়ি’ গ্রন্থে। সেই গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ‘শিয়ালদা বলতে পারিস, বরিশাল এক্সপ্রেস এখেনে এসে থামত। বিজন শুনছিল কবিতা আর বড় মামার কথা। বরিশাল এক্সপ্রেসের কথা বলতেই সেই দীর্ঘ, আঁকাবাঁকা সবুজ গাড়িটির কথা মনে করতে পারল।’

১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ এই ৪টি শ্রেণি ছিল ভ্রমণ করার জন্য। আর মালামাল বহনের জন্যও আলাদা শ্রেণি ছিল।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হয়ে গেলে এটি একটি আন্তর্জাতিক ট্রেনে পরিণত হয়। বেনাপোল ও পেট্রোপোলে যাত্রীদের পাসপোর্ট ও ভিসা চেক করা হতো। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর এ রুটে ২০১৭ সালে আরেকটি ট্রেন চালু হয়। এ ট্রেনের নাম ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’।

Latest article