পাঠ্যবহির্ভূত কার্যক্রম বনাম সাধারণ পাঠ্যক্রম

Must read

পাঠ্যবহির্ভূত ক্রিয়াকলাপ সমূহ একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা-জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সার্বিক বিকাশ সুনিশ্চিত করে। যদিও বর্তমানের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার ফলে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের এসকল ক্রিয়া-কলাপে অংশ নিতে বাঁধা দেয় এবং পাঠ্যবহির্ভূত কার্যক্রমগুলোকে ‘সময় অপচয়কারী’ হিসাবে দেখা হয় কারণ পিতামাতারা ও শিক্ষার্থীরা মনে করে, এসব থেকে কেউ কিছু অর্জন করতে পারে না। এই ধারনার আসলে কোনো ভিত্তিই নেই বরং এসব কার্যকলাপ একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশ ও দক্ষতা অর্জনের মুখ্যম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমিক ক্রিয়াকলাপ বলতে মূলত সেসকল ক্রিয়াকলাপকে বোঝায় যা স্কুল বা কলেজ শিক্ষার সাধারণ পাঠ্যক্রমের বাইরে থাকে। এগুলোর বেশিরভাগই স্বেচ্ছাসেবী এবং বাধ্যতামূলক কাজের বিপরীতে থাকে। পাঠ্যবহির্ভূত কার্যক্রমের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে এর সূচনা হয়েছিল উনিশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। যেসকল কার্যক্রম আজ স্কুলে-স্কুলে সুপরিচিত তার উৎপত্তি বিখ্যাত হাভার্ড ও ইয়েইল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত ধরে সাহিত্য ক্লাব ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের মাধ্যমে।পাঠ্য বহির্ভূত কার্যক্রম পারিপার্শ্বিক কাজের পাশাপাশি হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পিতা-মাতারা আমাদের খেলাধুলা কম করতে ও বেশী সময় ধরে অধ্যয়ন করতে উৎসাহিত করে থাকে। আমাদের অভিভাবকদের বিশ্বাস, যে পড়াশোনায় মানসম্পন্ন সময় ব্যয় করা অবশ্যই ভবিষ্যতে আমাদের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।তবে বই-পুস্তক আর মূলধারার পড়ালেখা ছাড়াও যে আরো অনেক ক্রিয়াকলাপ আছে যা হতে পারে আনন্দদায়ক, আকর্ষণীয় এবং শিক্ষা সহায়ক তা অনেক ক্ষেত্রেই পিতা-মাতা ও শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় রাখতে দেখা যায়না। অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমিক কাজের মধ্যে রয়েছে নাটক, ছাত্র সরকার, গান গাওয়া, কম্পিউটার ক্লাব, ম্যাথ ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব, সামাজিক সংগঠন, ক্রিকেট-ফুটবল খেলা সহ এমন আরও অনেক কিছু। এসবে অংশগ্রহনের মাধ্যমে আমাদের পড়াশোনায় অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পরতে পারে। পড়ালেখার মত পীড়াদায়ক ব্যাপারটি হয়ে উঠতে পারে আরও সহজতর এবং আনন্দদায়ক। এছাড়াও, এই ক্রিয়াকলাপগুলি সমবয়সীদের সাথে সামাজিকীকরণের সুযোগকে বাড়িয়ে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের সময় পরিচালন, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং নেতৃত্বদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। দেশপ্রেম, নৈতিক মূল্যবোধ আর অধিকার সোচ্চার হিসেবে গড়ে তুলে।বিদেশের অনেক নামী-দামী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সময় ছাত্রদের সার্বিক মেধা ও দক্ষতার উপর ভিত্তি করে ছাত্র নির্বাচন করে। এসময় তারা মূলধারার পড়ালেখার পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমকে তাদের মান্দন্ড ধরে ছাত্র বাছাই করে থাকে। কেননা এসকল কার্যক্রম একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, মেধা ও দক্ষতার পরিচায়ক। আমাদেরও উচিৎ ছোটবেলা হতেই এসব চর্চা করে নিজের মেধা ও সৃজনশীলতার পরিস্ফুটন ঘটানো। তবে দুঃখের বিষয়, এই ক্ষেত্রে বেশীরভাগ পিতা-মাতা আর বিদ্যালয়ের শিক্ষককে দেখা যায় উদাসীন। পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের উচিৎ বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে আমাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আর অনুপ্রেরণা জুগিয়ে ভবিষ্যত চলার পথকে আরো সুগম করা। সাধারণ পাঠ্যক্রম আর পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কাজের সমন্বয়েই আসবে কাম্য সফলতা।মীর ফাহিম রুদ্রকুমিল্লা

Latest article