Lets read Newspaper
together

সব আয়োজনের খবরাখবর এক জায়গায়

পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করার কিছু উপায়

on

|

views

and

comments

শিক্ষাজীবনে আমাদের মনে একটা ভয় কাজ করে। সেই ভয়টা হলো লেখাপড়া নিয়ে। জীবনে ভালো কিছু করতে হলে লেখাপড়াটাকে সাথি করে নিতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার,ব্যায়াম ইত্যাদি ছাড়া যেমন স্বাস্থ্যবান হওয়া যায় না তেমনি লেখাপড়া ছাড়াও কোনো একটা ভালো স্থানে যাওয়া যায় না। কোনো একটা ভালো স্থানে যাওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে শিক্ষা তথা লেখাপড়া। শিক্ষাই আমাদেরকে সকল নেতিবাচক কর্ম থেকে দূরে রাখে। ছাত্রজীবনে  একজন শিক্ষার্থীর মূল কাজ হচ্ছে লেখাপড়া করা। এই সময়টা ঠিক বীজ বপন করার সময়। এ সময় যদি আমরা সেই বীজ এর যত্ন না নিই তাহলে ভবিষ্যতে ফল ভালো পাব না। তেমনি ছাত্রজীবনে যদি ভালোভাবে লেখাপড়া না করি সুশিক্ষা অর্জন না করি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 

তো এখন প্রশ্ন, “আমার তো লেখাপড়া করতে ভালো লাগে না। বিরক্ত লাগে।

আমি কীভাবে দৈনিক আমার লেখাপড়া শুরু করব?”

 পরিবেশ, ভালো মনমানসিকতা, সামনে এগোনোর চেষ্টা, নিয়মিত পাঠাভ্যাস এগুলোই তখন বড়ো হাতিয়ার হিসাবে দাঁড়ায়।

০১. পড়ার টেবিল থেকে সব সময় গুছিয়ে রাখো।

আমাদের অনেকের পড়ার টেবিলে বসতে ইচ্ছা করে না। বসলেও কেমন জানি অস্বস্তি লাগে। পড়ার টেবিলে মন বসার একটি গোপন ট্রিকস হচ্ছে পড়ার টেবিলকে সব সময় গুছিয়ে রাখা। পড়ার টেবিল যদি অগোছালো থাকে আর আমরা যদি সে সময় সেখানে লেখাপড়া করি, তাহলে কেমন যেন একটা বিরক্ত লাগে। পড়ার টেবিলে যথাসম্ভব কম পরিমাণে বই রাখা উচিত। তোমার পড়ার টেবিল যদি সব সময় গোছানো থাকে তাহলে তোমার পড়ার টেবিল অন্যদের নজর কেড়ে নেবে। তাছাড়া একজন ভালো ছাত্রের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার পড়ার টেবিল সব সময় পরিষ্কার ও গোছালো রাখা। তাই আজ থেকে তোমার পড়ার টেবিল সব সময় গুছিয়ে রাখো।

০২. নজর রাখো পড়াশোনার পরিবেশের দিকে।

কোনো স্থানে পড়াশোনা করতে গেলে সেখানকার পড়াশোনার পরিবেশ কেমন, সেটা আমাদেরকে আগে লক্ষ রাখতে হবে। পড়াশোনার পরিবেশ এর ওপর ভিত্তি করে লেখাপড়ায় মন বসানো যায় কি না, সেটা খুব সহজেই বোঝা যায়। তাই যখন লেখাপড়া করবে, তখন চারপাশের পরিবেশ ঠিক রাখার চেষ্টা করবে। কোলাহলপূর্ণ স্থানে একজন শিক্ষার্থীর মাথায় কখনো কিছু ঢুকে না। তাই পড়ার আগে পরিবেশের দিকটার ওপর খেয়াল রাখো।

০৩. নিয়ে নাও টার্গেট।

লেখাপড়াকে আনন্দদায়ক করার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে তার টার্গেট নেওয়া। তুমি সপ্তাহভিত্তিক বা পক্ষভিত্তিক বা মাসভিত্তিক টার্গেট নিয়ে পড়তে পারো। অর্থাৎ এক সপ্তাহে তুমি তোমার একটি নির্দিষ্ট বইয়ের কতটি অধ্যায় শেষ করতে পারবে বা একপক্ষে কতটি শেষ করতে পারবে বা এক মাসে কতটি শেষ করতে পারবে, এই অনুযায়ী পড়ো। এর ফলে তোমার লেখাপড়া সময় অনুযায়ী হবে। আমাদের একটা খুবই পরিচিত সমস্যা আছে।আমরা অনেকেই নিজে নিজেকে বলি, “আজ সকাল থেকে আমি লেখাপড়া শুরু করব।” কিন্তু পরে সেই সকাল থেকে আর লেখাপড়া শুরু করা হয় না।তখন আবার রাতের কথা চিন্তা করি। এই সমস্যা থেকে সমাধান পেতে টার্গেট নিয়ে পড়া একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে তুমি কখন পড়ো সেটা কোনো যায় আসে না, তোমার এক মাসে কতটা অধ্যায় কমপ্লিট হলো সেটা সহজেই নির্ণয় করা যায়।

০৪. একাডেমিক এর পাশাপাশি প্রস্তুতি নাও অ্যাডমিশনের।

একাডেমিক লেখাপড়ার পাশাপাশি আমাদেরকে অ্যাডমিশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কোন একটা ভর্তিযুদ্ধে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আমাদেরকে দিতে হয় ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মোটামুটি একটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে আমাদেরকে খুব কম সময়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। একাডেমিক লেখাপড়ার সময় যদি আমরা প্রতিদিন সেই বিষয়গুলো অল্প অল্প করে পড়ি তাহলে মোটামুটি প্রস্তুতিটা খুবই শক্ত হয়। এছাড়াও সাধারণত একাডেমিক লেখাপড়া থেকে এডমিশনে প্রশ্ন হয়।

০৫. পড়ার ফাঁকে ফাঁকে চলবে চা বা কফি।

পড়তে পড়তে যখন একটা শিক্ষার্থী ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন একটু চা বা কফি একজন শিক্ষার্থীর ক্লান্তিকে কিছুটা দূর করে দিতে পারে। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে কিছু সময় ‘Tea time’ এর জন্য বিরতি দাও। এতে তোমার মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে,এটা একজন শিক্ষার্থীর স্মৃতিশক্তি রক্ষায় কাজ করে। চা বা কফির কিছু গুণাগুণ আছে যা আমাদের খুব উপকার করে। লেখাপড়া করার সময় স্মৃতিশক্তি বাড়ার এ কার্যকরী টিপসটি কাজে লাগাও আজ থেকেই।

০৬. Study music এর ব্যবহার।

নিউরোসায়েন্স প্রমাণ করেছে যে, সুর দ্বারা মানুষের মস্তিষ্ক কে প্রভাবিত করা যায়।

কোনো একটা বিশেষ লেখাপড়ায় Study music ব্যবহার করো।ছোটবেলায় মায়েরা যেমন একটা শিশুকে ঘুমানোর জন্য ঘুম পাড়ানির গান গায়, তেমনি কোনো একটা বিশেষ সুর লেখাপড়ার  সময়টাকে খুব আনন্দদায়ক করে তোলে এবং খুব মনোযোগদায়ক করে তোলে। আমাদের অনেকের একটা অভ্যাস আছে। সেটা হচ্ছে, ফোনে গান বাজিয়ে লেখাপড়া করা। আজ থেকে সেই অভ্যাস বাদ দিয়ে আমাদেরকে প্রয়োজনে Study music বাজিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। এতে আমরা আনন্দের সহিত ও মনোযোগের সহিত লেখাপড়া করতে পারব। তাই ,আজকে থেকে ট্রাই করা শুরু করে দাও।

০৭. নতুন কিছু শেখার আগ্রহ নিয়ে পড়ো।

প্রতিদিনের লেখাপড়ায় নতুন কিছু বিষয় রাখতে হয়। কেননা এতে আমাদের শেখার পরিধি বৃদ্ধি পায় এবং আমরা আনন্দের সহিত পড়তে পারি। আমরা যদি আমাদের প্রতিদিনের লেখাপড়ায় পুরাতন কিছু রাখি, তাহলে আমাদের পড়তে ইচ্ছা করে না। এক জিনিস বারবার পড়তে বিরক্ত লাগে।তাই লেখাপড়ায় যদি নতুন কিছু থাকে, তাহলে খুব আনন্দদায়কভাবে শেখা যায়। আকর্ষণীয় কিছু যেমন: মহাকাশ সম্পর্কিত, নিজের দেহ সম্পর্কিত ইত্যাদি; যাতে অবাক করা তথ্য থাকে। প্রতিদিনের লেখাপড়ায় এগুলা কিছু কিছু পড়তে পারো।

ছবি সোর্স: BD Self Care

-Tanvir Islam

Share this
Tags

Must-read

Renowned physics teacher Maksudul Hossain Jewel to join INTEL

Maksudul Hossain Jewel, the well-known physics teacher of Bangladeshi online education platform OnnoRokom Pathshala, has got an offer from world's one of the best...

NNO has been nominated for Monsta Award !

To vote NNO - Visit this link: https://gomonsta.asia/the-story-of-a-black-and-white-paper/ 

বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশের তাকরিম

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় আবারও বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের খুদে হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় আয়োজিত ৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল...
spot_img

Recent articles

More like this