Lets read Newspaper
together

সব আয়োজনের খবরাখবর এক জায়গায়

তিস্তা বাঁচানোর লক্ষ্যে সংগ্রামী ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’

on

|

views

and

comments

তিস্তা প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ ও ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যার ১১৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয় বাংলাদেশে। নদীটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। বর্তমানে নদীটির অবস্থা বেশ করুণ। দেশীয় অব্যবস্থা ও ভারতীয় পানি প্রত্যাহারের কারণেই বর্তমানে নদীটির এ দুরবস্থা।

এই নদীকে এই দুরবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ২০১৫ সাল থেকে ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী ও সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানের নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার তিস্তার তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষকে নদীভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে, জলাশয় দখল-দূষণমুক্ত রাখতে এবং তিস্তা ও এর শাখা নদ-নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এই সংগঠন অনেক আগে থেকেই নানা আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে।

রংপুর বিভাগের এই নদীটি সে অঞ্চলের জীবন ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ অঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এ অঞ্চলের মানুষ অনেকাংশে তিস্তার ওপর নির্ভরশীল। তাই এ নদীটির দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

এ নদীটি শুষ্ক মৌসুমে জলহীন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, তলদেশ গভীর না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বড়ো বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। আবার বর্ষা যেতে না যেতেই নদীটি মৃতপ্রায় হয়ে যায়। এদিকে ভারতীয় পানি প্রত্যাহারের ফলে বন্যা ও নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাছ না থাকায় মৎস্যজীবী ও জেলে সম্প্রদায়কে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে দেখা যায়। ফলে এ নদীটি ব্যবস্থাপনার অভাবে ক্রমেই এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠছে।

এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করতে থাকা ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ তিস্তা নদীকে নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছে।  নদীতার নাব্যতা সংকট দূরীকরণ, অন্যদিকে অতিবৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সদয় দৃষ্টিভঙ্গির দাবিতে এই সংগঠন দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারা নদী সুরক্ষা এবং নদী তীরবর্তী মানুষের এ নদীকে কেন্দ্র করে জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা চায়। নদীর বিজ্ঞানসম্মত খনন, তীররক্ষা, শাখা নদীগুলো উন্মুক্তকরণ, শাখা নদী খনন, নদীর পানি ধরে রাখার জন্য জলাধার নির্মাণ এবং তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ইত্যাদি প্রকল্প বাস্তবায়ন-সহ তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করা আজ তাদের প্রধান দাবি।

সরকারি পর্যায়ে এ দাবির ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘তিস্তা নদীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ হাতে নিয়েছেন। এই মহাপরিকল্পনাটি অতি দ্রুত পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে রংপুরের তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার অবসান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Share this
Tags

Must-read

Renowned physics teacher Maksudul Hossain Jewel to join INTEL

Maksudul Hossain Jewel, the well-known physics teacher of Bangladeshi online education platform OnnoRokom Pathshala, has got an offer from world's one of the best...

NNO has been nominated for Monsta Award !

To vote NNO - Visit this link: https://gomonsta.asia/the-story-of-a-black-and-white-paper/ 

বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশের তাকরিম

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় আবারও বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের খুদে হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় আয়োজিত ৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল...
spot_img

Recent articles

More like this

1 COMMENT

Comments are closed.