কৌশলগত ত্রুটির কারণে দেশে টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত

Must read

দেশে করোনা রোধে টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু জেলায় টিকা শেষ হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত যত টিকা এসেছে এবং আসবে, তাতে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। বাকিদের কী হবে-এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছে না। আগামীকাল চীনের সিনোফার্ম থেকে ৫ লাখ টিকা আসবে দেশে।

কিন্তু এই টিকা শিগগিরই কেনার সুযোগ পাচ্ছে না বাংলাদেশ। রাশিয়ার টিকাও দরকষাকষির প্যাঁচে পড়ে আটকে আছে। অগ্রিম টাকায় কেনা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা কবে পাওয়া যাবে, সেটিও অনিশ্চিত। দেশীয় কোম্পানি বঙ্গভ্যাক্সের ট্রায়াল পরিচালনার এখনো অনুমোদন মেলেনি। এই টিকা নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও আশাবাদী নন। সব মিলিয়ে টিকার জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষা চলছে। এর শেষ কোথায়, কেউ জানে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্টদের কৌশলগত ভুলের কারণে আমরা টিকা সংগ্রহে পিছিয়ে পড়ছি। এ সংক্রান্ত সব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাশিয়ার টিকা ৬৪টি দেশে বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনুধাবন না করে আমাদের দেশের পক্ষ থেকে ৩০টি শর্ত দেওয়া হলো, যা সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।  ফলে তা এই টিকার প্রাপ্যতার সম্ভাবনাকে শঙ্কায় ফেলছে। 

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, “গণটিকাদান কর্মসূচি সফল করতে পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সব উদ্যোগই বিঘ্নিত হচ্ছে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে গণহারে করোনা টিকা দেওয়া শুরু হয় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। ওইদিন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে টিকা দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্‌বোধন করেন। এর আগে ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি উদ্‌বোধন করেন। এরপর থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ জনকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরুর পর এ পর্যন্ত ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৬ জন এই টিকা নিয়েছেন। দেশে এ পর্যন্ত কেনা টিকা এসেছে ৭০ লাখ ডোজ এবং উপহার হিসাবে এসেছে আরও ৩২ লাখ। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯৪ লাখ। বর্তমানে আর ৮ লাখ ডোজ মজুত রয়েছে। মজুত কমে আসায় এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় ২৬ এপ্রিল থেকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ফাইজার বায়োটেকের এক লাখ টিকা মে মাসে বাংলাদেশে আসবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে টিকা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অধিদপ্তরের করোনা সংক্রান্ত মুখপাত্র ও পরিচালক (এনসিডিসি) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন এই তথ্য জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার; ১১ই মে,২০২১

ঢাকা

Latest article