ফাহীমা আহমেদ শিফার দোতারা শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প

Must read

বাবার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দোতারা নিয়ে পথচলা শুরু ফাহীমা আহমেদ শিফার। শুরু থেকেই দোতারার সুরে সে খুঁজে ফিরেছে নিজ মাটির গন্ধ। পরবর্তীতে তার বাবার সেই ইচ্ছেকে নিজের স্বপ্নে রুপান্তরিত করেছে, দোতারার প্রতি ভালোলাগা ধীরে ধীরে পরিনত হয়েছে ভালোবাসায়। প্রফেশনাল দোতারা শিল্পী হওয়া তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো না, ইচ্ছেটাকে বাস্তব রূপ দেওয়া এবং মনের খোরাক মেটানো-ই ছিলো মূখ্য বিষয়।

মুজিব শতবর্ষ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহেনার সান্নিধ্যে বাংলাদেশের বিখ্যাত ১০০ জন যন্ত্র শিল্পী। উল্লেখ্য, বাম দিক থেকে প্রথম সারিতে দোতারা হাতে ফাহীমা আহমেদ শিফা।

তার সেই ইচ্ছেটা নিজের অজান্তেই প্রফেশনাল দোতারা শিল্পী হওয়ার দিকে ধাবিত করেছে। মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের বিখ্যাত ১০০ জন যন্ত্র শিল্পীদের সাথে দোতারা বাজানোর সুযোগ পাওয়া তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এর সর্বকনিষ্ঠ তালিকাভুক্ত দোতারা শিল্পী ফাহীমা আহমেদ শিফা। পাশাপাশি দোতারা শিল্পী হিসেবে যুক্ত আছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ফাহীমা আহমেদ শিফা। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটিতে দলনেতা হিসেবে ছিলেন শিফা।

দোতারা শিল্পী হয়ে ওঠার পথচলায় কাদের অবদান সবচেয়ে বেশি এমন প্রশ্নের উত্তরে শিফা বলেন, “এই পর্যায়ে আসার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার বাবার এবং আমার শিক্ষকদের। বাবা এই ইচ্ছেটা প্রকাশ না করলে হয়তো আমার দোতারা নেওয়া হতো না। অনুপম বিশ্বাস স্যার এবং নির্মল কুমার দাস স্যার এতটা উৎসাহ এবং ভালোবাসা দিয়ে শিখিয়েছেন যে দোতারার প্রতি আলাদা ভালোলাগা তৈরি হয়েছে। স্যাররা অনুপ্রেরণা না দিলে কখনই শিখতে পারতাম না।

২১শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে সংসদ টিভির আয়োজনে ফাহীমা আহমেদ শিফা।

বন্ধুমহল থেকেও বেশ সাপোর্ট পেয়েছি। একজনের নাম না বললেই না। সে হলো মেহু। আমি অনেক বেশি সাপোর্ট পেয়েছি ওর থেকে। করোনা কালীন সময়ে সর্বপ্রথম আমি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম একটা প্রতিযোগিতায়। অনেকটা চিন্তিত ছিলাম এটা ভেবে যে লোকে কি বলবে! কে কি ধরনের মন্তব্য করবে, ভালো হবে কী হবে না। অর্থাৎ মনোবল একদম শূন্য ছিল। ওই সময়ে মেহু আমাকে বোঝায় এবং চেষ্টা করে দেখতে বলে। ও বলল, ” সবার চিন্তা ভাবনা এক রকম নয়, যেকোনো কাজে ভালো এবং খারাপ দুটো দিকই থাকে তাই বলে নিজেকে থামিয়ে রাখা যাবে না।”

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ২১ শে ফেব্রুয়ারী প্রোগ্রামে ফাহীমা আহমেদ শিফা।

ওর কথাগুলো শোনার পর অনেকটা মনোবল ফিরে পাই। রীতিমতো মানুষের ভালোবাসা পাওয়া শুরু হয় ওই ভিডিয়োটি থেকে। প্রতিযোগিতায় ভিডিয়োটির জন্য আমি পুরস্কার পেয়েছিলাম। সবার এত উৎসাহ, অনুপ্রেরণা এবং প্রশংসার পাশাপাশি আমার ভুলগুলো সুন্দর করে ধরিয়ে দেওয়া আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। তাই আমি বলবো যে, আমার এই সাফল্যের পিছনে মেহু’র অবদানও অনেক বেশি। ও যদি তখন আমাকে এই উৎসাহটা না দিত আমি হয়তো কখনোই আমার হীনম্মন্যতার জায়গাটাকে কাটিয়ে উঠতে পারতাম না।”

ফাহীমা আহমেদ শিফা ভবিষ্যতে নিজেকে ভালো একটি পর্যায়ে দেখতে চায় , আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে চায় দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সংস্কৃতি। মা-বাবার গর্বিত সন্তান হয়ে যথাযথ সম্মান উপহার দিতে পারা এবং ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাঝেই শিফার সার্থকতা।

Latest article